


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: খাবারের বিকল্প বাছেননি যাত্রী। কিন্তু তা সত্ত্বেও কেটারিং চার্জের আংশিক মেটাতেই হচ্ছে। ‘নো ফুড’ অপশনেও বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনে এমন ঘটনা ঘটছে। সাধারণ রেল যাত্রীদের একটি অংশের এহেন অভিযোগে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অভিযোগ যে পুরোপুরি মিথ্যা নয়, তা একপ্রকার স্বীকারও করে নিয়েছে রেলমন্ত্রকের আওতাধীন আইআরসিটিসি (ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কেটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন)। তারা জানিয়েছে, পানীয় জলের বোতল এবং খবরের কাগজের মূল্য হিসাবেই ওই নামমাত্র চার্জ ধরা হচ্ছে।
প্রশ্ন উঠছে, আদৌ কি ট্রেনে প্রত্যেক রেল যাত্রীকে একটি করে খবরের কাগজ দেয় রেল? যাত্রীদের অধিকাংশেরই দাবি, প্রত্যেক ‘রো’য়ে একটি বা দু’টি করে খবরের কাগজ দেওয়া হয়। কোনো সময় প্রতি আসনে একটি করে সংবাদপত্র দেওয়া হয়। ফলে দু’জন যাত্রী পাশাপাশি বসলে প্রত্যেককেই ভাগাভাগি করে তা পড়তে হয়। যদি প্রত্যেক রেল যাত্রী সংবাদপত্র নাই পান, তাহলে সকলের কাছ থেকে চার্জ আদায় করা হবে কেন? তাছাড়া ট্রেনে যে খবরের কাগজ দেওয়া হয়, তা ব্যাগে ভরে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার অনুমতি নেই। সংশ্লিষ্ট যাত্রীরা যদি চার্জই মিটিয়ে দেবেন, তাহলে সংবাদপত্র ফেরত দিতে হবে কেন? একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, যে যাত্রী ‘নো ফুড’ বিকল্প বেছে নিচ্ছেন বন্দে ভারত ট্রেনে, তাঁকে ট্রেনের জল কিনে খেতে কার্যত বাধ্য করা হবে কেন?
জানা গিয়েছে, গত ২০ ফেব্রুয়ারি থানে থেকে নান্দেদ যাওয়ার জন্য বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে টিকিট কেটেছিলেন জনৈক যাত্রী। ‘নো ফুড’ বিকল্প বেছেছিলেন তিনি। সবমিলিয়ে তাঁকে মেটাতে হয় ১ হাজার ২৫৯ টাকা ৫ পয়সা। এর মধ্যে টিকিট মূল্য ১ হাজার ২১৬ টাকা। আইআরসিটিসির কনভেনিয়েন্স ফি ২৩ টাকা ৬০ পয়সা। বিমা বাবদ মেটাতে হয়েছে ৪৫ পয়সা। বাকি ১৯ টাকা কোন খাতে নিয়েছে রেল? চমক রয়েছে এখানেই। ওই যাত্রীর টিকিট থেকে দেখা যাচ্ছে যে, ১৯ টাকা নেওয়া হয়েছে কেটারিং চার্জ বাবদ। রেল যাত্রীর প্রশ্ন, খাবারের বিকল্প যদি বাছা নাই হবে, তাহলে কীসের ভিত্তিতে আংশিক কেটারিং চার্জ হিসাবে ১৯ টাকা মেটাতে হচ্ছে তাঁকে? এপ্রেক্ষিতেই আইআরসিটিসি জানিয়েছে যে, এটি বাধ্যতামূলকভাবেই দিতে হবে যাত্রীকে। কারণ তাঁকে ট্রেনে অন-বোর্ড জলের বোতল এবং সংবাদপত্র দেওয়া হবে।