


নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী পদে নরেন্দ্র মোদির জন্য সঙ্ঘের কাঁটা কি আরও তীক্ষ্ণ হচ্ছে? এই জল্পনা বাড়ছে। আর তার নেপথ্যে আরএসএসেরই শীর্ষ মহল। সরসঙ্ঘ চালক মোহন ভাগবত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন, ৭৫ বছর বয়স হলে অবসর নেওয়া উচিত। কারণ, নবীনদের সুযোগ দিতেই হবে। এই বার্তা কেন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ৭৫ বছর পূর্ণ করছেন নরেন্দ্র মোদি। তাঁরই তৈরি করা ‘বিধান’—ওই বয়সের পর সরে যেতে হবে গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে। তাহলে একই নিয়ম প্রধানমন্ত্রী পদেও কার্যকর হওয়া উচিত? এই চর্চা আগুনের শিখার মতো ছড়াচ্ছে দলের অন্দরে। এবং আরএসএসের মধ্যেও। দলের একটা অংশেরই দাবি, মোদিকে আর সরকারের শীর্ষ পদে চাইছে না সঙ্ঘ। তার প্রমাণ ভাগবতের এই মন্তব্য। বুধবার নাগপুরে সঙ্ঘের প্রবীণ নেতা মোরোপান্ত পিংলেকে নিয়ে বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে সঙ্ঘের এই নেতার একটি ঘটনা টেনে আনেন ভাগবত। বলেন, ‘৭৫ বছর বয়সে পিংলেজিকে বৃন্দাবনে যখন সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল, তখন ওই মঞ্চেই তিনি বলেছিলেন, ৭৫ বছর বয়সে শাল দেওয়ার অর্থ আমি জানি। এই বয়সে যে সরে যেতে হবে, সেই শিক্ষা তিনি দিয়েছিলেন।’ এভাবে ভাগবত যে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারকেই বিঁধেছেন, তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই। এদিন শিবসেনার উদ্ধব গোষ্ঠীর নেতা সঞ্জয় রাউতও সাফ বলেছেন, ‘সরসঙ্ঘ প্রধান এভাবে আসলে নরেন্দ্র মোদিকেই নিশানা করেছেন। ঘটনাচক্রে, ভাগবত এবং মোদি দু’জনেরই সেপ্টেম্বরে ৭৫ পূর্ণ হচ্ছে। ভাগবত পদত্যাগ করবেন জানিয়েই দিয়েছেন। এবার দেখি, নরেন্দ্র মোদি চেয়ার ছাড়েন কি না।’
লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই কিন্তু মোদির পদ নিয়ে জল্পনা চলছে। বিরোধীরাও তাতে লাগাতার ইন্ধন দিয়ে গিয়েছে। সেই চাপের মুখে সরকারের সেকেন্ড ইন কমান্ড অমিত শাহকে আসরে নামতে হয়েছিল। তিনি দাবি করেছিলেন, ২০২৯ পর্যন্ত মোদিজিই আমাদের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। তার পরও। যদিও এই দাবিতে সঙ্ঘের সিলমোহর কি রয়েছে? এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। গুরুতর প্রশ্ন আরও একটা রয়েছে—সেপ্টেম্বরে কি নতুন প্রধানমন্ত্রী পেতে চলেছে ভারত?