


সংবাদদাতা বোলপুর: বিশ্বভারতীর স্থায়ী উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ আসার আগে ঐতিহ্যবাহী বিশ্বভারতী চলছিল ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে। গত মার্চ মাসে যোগদানের পর এই প্রথম বড় পদক্ষেপ নিয়ে স্থায়ী কর্মসচিব সহ গুরুত্বপূর্ণ পদ পূরণে উদ্যোগী হলেন উপাচার্য। স্থায়ী কর্মসচিব, শ্রীনিকেতন ও রবীন্দ্র ভবনের ডিরেক্টর, ফিনান্স অফিসার ও ইন্টারনাল অডিট অফিসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের জন্য ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেই পদগুলি পূরণ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজের গতি আরও বৃদ্ধি পাবে, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বেশ কয়েক বছর ধরে বিশ্বভারতীর গুরুত্বপূর্ণ পদগুলি ভারপ্রাপ্তদের দ্বারাই পরিচালিত হচ্ছিল। এর ফলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ও বড় ধরনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কর্মসমিতির বৈঠকের মুখাপেক্ষী থাকতে হয়েছে। বিশ্বভারতীর শেষ স্থায়ী উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী তাঁর আমলে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলি পূরণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেননি বলে অভিযোগ। যেকোনও ধরনের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতেন বলে তাঁর আমলে বিতর্কের শেষ ছিল না। তাঁর অবসরের পর বিশ্বভারতীর উপাচার্য সহ অন্যান্য পদগুলিতে ভারপ্রাপ্তরা বহাল ছিলেন। তাই, উপাচার্য পদে যোগদান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে বিভিন্ন সমস্যা খতিয়ে দেখার পর শূন্যপদ পূরণে উদ্যোগী হলেন বর্তমান উপাচার্য।
তার প্রেক্ষিতে গত ২৪ এপ্রিল একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। ডিরেক্টর অব স্টাডিজ এডুকেশনাল ইনোভেশন অ্যান্ড রুরাল রিকনস্ট্রাকশন (শ্রীনিকেতনের ডিরেক্টর), ডিরেক্টর অব কালচার অ্যান্ড কালচার রিলেশনস(রবীন্দ্র ভবনের ডিরেক্টর), রেজিস্ট্রার, ফিন্যান্স অফিসার ও ইন্টারনাল অডিট অফিসার এই পাঁচটি পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হতেই অতীতের সমস্ত বিজ্ঞাপন বাতিল করা হয়েছে। সপ্তম পে কমিশনের আওতায় ইন্টারনাল অডিট অফিসারের বেতন ৮৭ হাজার ৮০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। বাকি পদগুলির জন্য একই পে কমিশনের এক লক্ষ ৪৪ হাজার ২০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। এর মাঝে রবীন্দ্রভবনের ডিরেক্টর(ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে অধ্যাপক অমল পালের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাঁর বদলে ভারপ্রাপ্ত ফিন্যান্স অফিসার অমিত হাজরাকে সেই দায়িত্বভার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ।