


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অবশেষে নতুন আয়কর আইনের বিধি প্রকাশ হল। বদলে যাচ্ছে করদাতা চাকরিজীবীদের গৃহভাড়া ভাতায় করছাড়ের নিয়ম। অর্থাৎ বেতনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকা হাউস রেন্ট অ্যালাউন্সে যে আয়কর ছাড় পাওয়া যায়, সেটি দুটি পৃথক বিভাগে পর্যবসিত হচ্ছে আগামী ১ এপ্রিল থেকে। দেশের সাতটি শহরে কর্মরত আয়করদাতাদের ক্ষেত্রে হাউস রেন্ট অ্যালাউন্সে বেতনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত করছাড়ের সুবিধা দেওয়া হবে। এই সাতটি শহর হল, মুম্বই, কলকাতা, দিল্লি, চেন্নাই, হায়দরাবাদ, পুনে, আমেদাবাদ এবং বেঙ্গালুরু। এই সাত শহর বাদ দিলে বাকি ভারতের জন্য করদাতারা বাড়িভাড়া ভাতায় ছাড় পাবে বেতনের ৪০ শতাংশ। এতদিন পর্যন্ত চারটি মেট্রো শহরের জন্যই এই নিয়ম প্রযোজ্য ছিল।
২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ১৯৬১ সালের আয়কর আইনের সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছিল সংসদে। বিগত বাজেটে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ঘোষণা করেছিলেন যে, নতুন আয়কর আইন কার্যকর হবে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে। এই নয়া আইনে বাড়িভাড়া বাবদ যে করছাড়, সেটিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রেখেছে। তালিকায় রয়েছে বাড়িমালিক এবং ভাড়াটের সম্পর্ক। অর্থাৎ এবার থেকে নিয়ম করে একটি ডিক্লারেশন ফর্মে জানাতে হবে যে, একই পরিবারের দুজন সদস্যই বাড়ির মালিক ও বাড়ির ভাড়াটে কি না। বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায়, যে বাড়ি মালিককে ভাড়া দিচ্ছে, সেই ভাড়াটে পরিবারেরই সদস্য। অর্থাৎ পিতা-পুত্র, মাতা-কন্যা, স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন। রক্তের সম্পর্কযুক্ত হলে এই ঘোষণাপত্র জমা দিতে হবে যে, ভাড়াটে ও বাড়ি মালিকের সম্পর্ক কী। নতুন আয়কর আইনে মোদি সরকার আয়কর কোড এক ধাক্কায় কমিয়ে এনেছে। ১৯৬১ সালের আয়কর আইনে আয়কর কোড রয়েছে ৮১৯টি। নতুন আইনে হবে ৫৩৬টি কোড। ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্সের বেশ কয়েকটি রদবদল করা হয়েছে বিধিতে। শেয়ার, ডিরেঞ্চার, বন্ড, ডিপোজিট সার্টিফিকেটে হোল্ডিং পিরিয়ডকে বিশেষ মানদন্ড দেওয়া হবে ট্যাক্স নির্ধারণের সময়। নতুন আইনে তাৎপর্যপূর্ণ সংযোজন হল যে বছরের জন্য ট্যাক্স দেওয়া হয়েছে এবং ট্যাক্স রিটার্ন জমা করা হচ্ছে, সেই সংজ্ঞা বদলে দেওয়া। এবার থেকে ‘ট্যাক্স ইয়ার’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হবে। অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার বিভ্রান্তির জন্ম দিয়েছে অতীতে। ট্যাক্স ছাড়ের একঝাঁক বদল ঘটেছে। প্রতি মাসে ছাত্রছাত্রীদের হস্টেল খরচের জন্য যে ভাড়া করছাড়ের আওতায় আসে সেটি ৩০০ টাকা। সেটি হবে ৩ হাজার টাকা। অফিস থেকে যদি ফুড বিল পাওয়া যায়, তাহলে সেক্ষেত্রে করছাড়ের সুবিধা ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকা পর্যন্ত হচ্ছে। স্কুল ফি বাবাদ ব্যয়ের করছাড় সীমা ছিল ১২ হাজার টাকা। সেটি এখন ৩৬ হাজার টাকা।