Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

ইজরায়েলি বন্দিদের ফেরাল হামাস উচ্ছ্বাসে ভাসল নেতানিয়াহুর দেশ

দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে ঘরে ফিরলেন ইজরায়েলের যুদ্ধবন্দিরা। গাজা শান্তি চুক্তি অনুযায়ী, সমস্ত  ইজরায়েলি বন্দিকেই মুক্তি দিয়েছে হামাস। ইজরায়েল সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, প্রথমে ৭ ও পরে ১৩ জনকে রেড ক্রসের হেফাজতে তুলে দেয় প্যালেস্তাইনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস।

ইজরায়েলি বন্দিদের ফেরাল হামাস উচ্ছ্বাসে ভাসল নেতানিয়াহুর দেশ
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

তেল আভিভ: দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে ঘরে ফিরলেন ইজরায়েলের যুদ্ধবন্দিরা। গাজা শান্তি চুক্তি অনুযায়ী, সমস্ত  ইজরায়েলি বন্দিকেই মুক্তি দিয়েছে হামাস। ইজরায়েল সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, প্রথমে ৭ ও পরে ১৩ জনকে রেড ক্রসের হেফাজতে তুলে দেয় প্যালেস্তাইনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। 

Advertisement

দু’বছরের বেশি সময় ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইজরায়েল ও হামাস সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে। স্বাক্ষরিত হয়েছে শান্তি চুক্তি। সেখানেই আটকে রাখা ইজরায়েলি বন্দিদের মুক্তির প্রতিশ্রুতি দেয় হামাস। সেইমতো ২০ জন ইজরায়েলি যুদ্ধবন্দি ইজরায়েলে ফিরলেন। তবে এখনও ঘরে ফেরার অপেক্ষায় ইজরায়েলে আটক  ১৯০০ প্যালেস্তাইনি। 
সোমবার বন্দিদের ঘরে ফেরার আনন্দে উৎসবে মেতে ওঠে ইজরায়েল। প্রিয়জনের জন্য দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর এদিন আত্মীয় পরিজন ও সাধারণ মানুষ ভিড় জমান দক্ষিণ ইজরায়েলের রেইম সেনাঘাঁটিতে। ভোর থেকেই মানুষের ঢল ছিল দেখার মতো। তাদের সকলের হাতেই ছিল ইজরায়েলের পতাকা। বড় স্ক্রিনে বন্দিদের প্রত্যাবর্তনের প্রতিটা মুহূর্ত দেখানো হচ্ছিল। তা দেখে অনেকেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।  মুক্তিপ্রাপ্তদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি ছিল বিশেষ হেলিকপ্টার। যদিও ওই ২০ জনের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। তাঁদের প্রত্যেকের জন্য সরকারের তরফে ছিল বিশেষ ওয়েলকাম কিট। তার মধ্যে অন্যতম প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর হাতে লেখা চিঠি। ছোট্ট ওই চিরকুটে তাঁদের দেশের ফিরে আসার জন্য অভিনন্দন জানান নেতানিয়াহু ও তাঁর স্ত্রী। সেখানে লেখা ছিল, ‘আপনাদের অপেক্ষায় ছিলাম।’ অন্যদিকে, এই বন্দি মুক্তি ও যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব সম্পূর্ণভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেই দিয়েছে ইজরায়েল। সোমবারই ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, হামাস-ইজরায়েল যুদ্ধ শেষ। এরপর বন্দিরা ঘরে ফিরতেই ট্রাম্প বন্দনায় মেতেছে ইজরায়েল। তাঁকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে ইজরায়েলের সমুদ্র সৈকতে বালি দিয়ে  তৈরি হয় বিশাল আকারের ভাষ্কর্য। এদিন তেল আভিভে ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে ইজরায়েলি পার্লামেন্টের ‘নেসেটে’  ভাষণও দেন তিনি।  সদস্যরা উঠে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান ট্রাম্পকে। স্লোগান ওঠে, ‘এ বিশ্বে আরও অনেক ট্রাম্প প্রয়োজন।’ যদিও এর মাঝে দুজন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কথা বলেন। প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখাতে উদ্যত হন তাঁরা। তবে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আগেই তাঁদের বের করে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তাঁর ভাষণে ট্রাম্প বন্দনায় মুখর হয়ে ওঠেন। ট্রাম্পকে সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান প্রদানের কথা ঘোষণা করে ইজরায়েল। এর আগে এই সম্মান পেয়েছিলেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

সম্পর্কিত সংবাদ