


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিএড কলেজ নিয়ে বিভিন্ন নেতিবাচক চিত্র উঠে আসছে বেশ কয়েক বছর ধরেই। তার মধ্যে খানিকটা হলেও আশার খবর এল এবার। রাজ্যের ৬২৪টি কলেজের মধ্যে মাত্র ছ’টি কলেজের স্বীকৃতি এ বছর বাতিল করেছে শিক্ষক শিক্ষণের কেন্দ্রীয় নিয়ামক সংস্থা এনসিটিই। এর মধ্যে এককভাবে বিএড কলেজ রয়েছে মাত্র একটি। বাকি কলেজগুলি ডিএলএড কলেজের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
এনসিটিই কলেজগুলির পারফরম্যান্স অ্যাপ্রেইজাল রিপোর্ট (পার) নিয়ে খুবই কড়াকড়ি শুরু করেছে এনসিটিই। রাজ্যের কলেজগুলি ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের পার জমা দিয়েছিল। তার ভিত্তিতেই এই স্বীকৃতি প্রদান এবং স্বীকৃতি বাতিলের প্রক্রিয়া চলেছে। পার জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ ছিল না। নিশ্ছিদ্র অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার জন্য ফায়ার লাইসেন্স, শিক্ষকদের নাম এবং যোগ্যতা সহ তালিকা বা ইআরসি, ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের (ডিবিটি) মাধ্যমে শিক্ষকদের সরাসরি বেতন প্রদান, জমি এবং ভবনের মালিকানা কলেজের ট্রাস্টের নামে রাখা প্রভৃতি নিশ্চিত করার পরেই এই রিপোর্ট জমা দেওয়া গিয়েছে।
রাজ্যের বিএড কলেজগুলি বাবাসাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটির অনুমোদনপ্রাপ্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তবর্তীকালীন উপাচার্য সোমা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কলেজগুলির প্রচুর অনিয়ম ছিল। কড়া হাতে মোকাবিলা করে, কিছু কলেজের অনুমোদন সাময়িক বাতিল করে বা তার হুঁশিয়ারি দিয়ে সেগুলিকে চাপে রাখা হয়েছিল। তখন আমার বিরুদ্ধে আন্দোলন, কটুক্তি করা হয় কলেজের কর্ণধারদের তরফে। তবে, এখন কলেজগুলি সেই কড়াকড়ির সুফল পাচ্ছে।
এনসিটিই মোট ২,২২৪টি কলেজের স্বীকৃতি বাতিল করেছে। তার মধ্যে ৮৭২টি কলেজই দেশের দক্ষিণাঞ্চলের। পশ্চিমাঞ্চলে ৬৮৬টি এবং ৬৩২টি রয়েছে উত্তরাঞ্চল থেকে। সেই তুলনায় পূর্বাঞ্চলের পারফরম্যান্স বেশ ভালো। বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং অসমের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গও রয়েছে এই এলাকায়। এখান থেকে মাত্র ২৯টি কলেজের স্বীকৃতি বাতিল করেছে এনসিটিই। পার নিয়ে কলেজগুলি সিরিয়াস হওয়ায় এই সাফল্য বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।