


স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: অপরাধ দমনে কেন্দ্রীয় সরকার আধুনিক প্রযুক্তির ‘ক্রাইম অ্যান্ড ক্রিমিনাল ট্র্যাকিং নেটওয়ার্ক সিস্টেম’ বা সিসিটিএনএস চালু করেছে। দেশের প্রতিটি থানায় চলছে এই নেটওয়ার্কে অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য ‘আপলোড’-এর কাজ। বিভিন্ন রাজ্যে সেই কাজ এখন কোন পর্যায়ে, তা খতিয়ে দেখতে দিল্লিতে রিভিউ বৈঠকে বসেছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। সেখানে পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের ৬টি রাজ্যকে চিহ্নিত করেছে মন্ত্রক। এই রাজ্যগুলিতে সিসিটিএনএসের কাজ যথাযথভাবে হচ্ছে না। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর (এনসিআরবি) দাবি, জম্মু ও কাশ্মীর, লাক্ষাদ্বীপ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গ এক্ষেত্রে ৮০ শতাংশের নীচে ‘স্কোর’ করেছে। তবে রাজ্য প্রশাসন ও পুলিসকর্তাদের একাংশ মনে করছে, এই ইস্যুতেও বাংলাকে নিশানা করতে পিছিয়ে পড়া রাজ্যগুলির সঙ্গে রাখা হয়েছে বাংলাকে। তাই তাঁদের পাল্টা প্রশ্ন, গত তিন বছর ধরে অপরাধের বার্ষিক খতিয়ান প্রকাশ করতে ব্যর্থ এনসিআরবি। সব রাজ্যেই সিংহভাগ ক্ষেত্রে সিসিটিএনএসে তথ্য তুলে দেওয়ার কাজ হলেও কেন অপরাধের বার্ষিক খতিয়ান পেশ করা হচ্ছে না? ২৬-এর ভোটের আগে রাজ্য সরকারকে হেনস্তা করার এটি নতুন উপায় কি না, প্রশ্ন তুলেছে ওয়াকিবহাল মহল।
এনসিআরবির একটি রিপোর্ট বলছে, দেশের ১৭ হাজার ১৮৪টি থানার প্রত্যেকটিতেই সিসিটিএনস সফ্টওয়্যার ‘ইনস্টল’ করে দেওয়া হয়েছে। এফআইআর, অভিযুক্ত, দাগী আসামিদের যাবতীয় তথ্য ‘আপলোড’ করতে হয় সিসিটিএনএসের মাধ্যমে। রিপোর্টে দাবি, পশ্চিমবঙ্গে এই কাজ সীমাবদ্ধ রয়েছে ৭০-৭৯ শতাংশের মধ্যে। এখানেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। এনসিআরবি’র দাবি, একাধিক থানা সমস্ত তথ্য ‘আপলোড’ করছে না। কোথাও এফআইআর তোলা হলেও থাকছে না অভিযুক্তের তথ্য ও প্রমাণ সংক্রান্ত নথি। সম্প্রতি দিল্লিতে আয়োজিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ওই রিভিউ বৈঠকে হাজির ছিলেন রাজ্য পুলিসের পদস্থ কর্তারাও। এই বৈঠকের পর রাজ্যে এসে এনসিআরবির আধিকারিকরা ভবানী ভবনে একটি বৈঠক করেন। কীভাবে সিসিটিএনএসের কাজে নজরদারি চালাতে হবে, তা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে কিছু নির্দেশ দিয়েছেন তাঁরা।
রাজ্য পুলিস সূত্রের দাবি, সিসিটিএনএস নিয়ে ৩ মাস অন্তর ট্রেনিং চলে। এর জন্য প্রতিটি থানায় একজন করে নোডাল অফিসার রয়েছেন। ভার্চুয়াল মাধ্যমে চলে প্রশিক্ষণ। প্রতিটি মামলার তথ্য কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ম মেনে তুলে দেওয়া হয় সিসিটিএনএস পোর্টালে। তাদের বক্তব্য, কেন্দ্রের রিপোর্ট থেকেই স্পষ্ট যে বাংলা সহ মোট ছ’টি রাজ্যে ৮০ শতাংশের কম কাজ করলেও বেশিরভাগ তথ্যই দিয়েছে। বাকি রাজ্যগুলিতে যে কাজ আরও বেশি হয়েছে অর্থাৎ আরও বেশি তথ্য ‘আপলোড’ হয়েছে, তা স্বীকার করে নিয়েছে এনসিআরবি। তাহলে ২০২২ সালের পর কেন অপরাধের বার্ষিক খতিয়ানের একটি রিপোর্টও প্রকাশ করা গেল না? ২০২১ ও ২০২২ সালে দেশের নিরাপদতম শহরের তকমা পেয়েছে কলকাতা। তার পুনরাবৃত্তি রুখতেই কি তথ্য চাপছে কেন্দ্র? এই প্রশ্নও উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।