নয়াদিল্লি: ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় শুক্রবার সোনিয়া ও রাহুল গান্ধীর নামে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিস ইস্যু করল দিল্লির একটি আদালত। এর আগে গত ২৫ মার্চ এই মামলায় সোনিয়া-রাহুল গান্ধী সহ চার জনের বিরুদ্ধে ‘নোটিস’ পাঠাতে রাজি হয়নি নয়াদিল্লির রাউস এভিনিউয়ের স্পেশাল সিবিআই আদালত। ইডির আবেদনে ত্রুটি আছে বলেই জানিয়ে ছিলেন বিচারক বিশাল গোগনে। বিশেষ আদালতের বিচারপতি বিশাল গোগনে এদিন বলেন, অভিযুক্তদের বক্তব্য পেশ করার অধিকার রয়েছে। সেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বক্তব্য পেশের অধিকার হল স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়ার প্রাণবায়ু। আগামী ৮ মে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।
ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলা ঘিরে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলছে রাজনৈতিক বিতর্ক। এই ইস্যুতে ২০১৪ সালের জুনে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছিলেন বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি গৃহীত হওয়ার পর ২০২১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করে ইডি। অভিযোগ আনা হয়, বর্তমানে বন্ধ ন্যাশনাল হেরাল্ড সংবাদপত্র ঘিরে ফৌজদারি ষড়যন্ত্র ও আর্থিক অনিয়মে যুক্ত রয়েছে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব। অভিযোগের নেপথ্যে রয়েছে ওই সংবাদপত্রের মূল সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেড (এজেএল)-এর অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া ও ইয়ং ইন্ডিয়ান নামে একটি অলাভজনক সংস্থা গঠন। ইয়ং ইন্ডিয়ানের ৩৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সোনিয়া ও রাহুল গান্ধীর নামে। ইডির অভিযোগ, একাধিক শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সংস্থার রিয়েল এস্টেট সহ নানাবিধ সম্পদ রয়েছে। যার বাজার মূল্য ২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। পরোক্ষে ওই সম্পদ অধিগ্রহণের লক্ষ্যেই গান্ধীদের ওই পদক্ষেপ। ইডির দাবি, হাত বদলের এই ঘটনায় সোনিয়া ও রাহুল গান্ধী সহ কংগ্রেসের একঝাঁক শীর্ষ নেতা প্রায় ৯৮৮ কোটি টাকার অর্থ তছরুপ করেছেন। যদিও এই মামলায় কংগ্রেসের পাল্টা অভিযোগ, তদন্তকারী সংস্থার অপব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চালাচ্ছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। ইয়ং ইন্ডিয়ান বাস্তবে একটি অলাভজনক সংস্থা। ফলে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।