Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিচিত্র কারণে বিচারাধীন বা বাদ গিয়েছে নাম, সব মহলেই উদ্বেগ

বিচিত্র বিচিত্র কারণে বাদ গিয়েছে নাম। কোথাও বা অদ্ভুত কারণে বিচারাধীন তালিকায় ঝুলে রয়েছে ভোটাধিকার। তরুণ প্রজন্ম  থেকে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, হিন্দু থেকে মুসলমান— হুগলিতে সব মহলেই এসআইআর নিয়ে শুরু হয়েছে হাহাকার।

বিচিত্র কারণে বিচারাধীন বা বাদ গিয়েছে নাম, সব মহলেই উদ্বেগ
  • ৫ মার্চ, ২০২৬ ১৪:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বিচিত্র বিচিত্র কারণে বাদ গিয়েছে নাম। কোথাও বা অদ্ভুত কারণে বিচারাধীন তালিকায় ঝুলে রয়েছে ভোটাধিকার। তরুণ প্রজন্ম  থেকে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, হিন্দু থেকে মুসলমান— হুগলিতে সব মহলেই এসআইআর নিয়ে শুরু হয়েছে হাহাকার। এসআইআরের শুনানিতে ডাক পেয়ে নথি দিয়েও যাঁদের নাম ওঠেনি, তাঁদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁরা বুঝে উঠতে পারছেন না, আর কী নথি দিলে ফিরে পাওয়া যাবে ভোটাধিকার। এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর চারদিন পেরিয়ে গিয়েছে, আশার আলো, অপেক্ষা আর উদ্বেগের ঘনঘটায় ডুবে আছে হুগলি। 

Advertisement

হুগলির মগরার প্রবীণ বাসিন্দা পুরুষোত্তম দত্ত। একদা সরকারি নিয়ম মেনে নাম বদল করেছিলেন। হয়েছিলেন স্বপন দত্ত। তাঁর নতুন নামে একাধিক নতুন নথি তৈরি হয়েছে। তৈরি হয়েছে পাসপোর্টও। কিন্তু সেসবকে পাত্তাই দিতে চায়নি নির্বাচন কমিশন। মগরার ওই প্রবীণ বাসিন্দার নাম বাতিল করা হয়েছে। স্বপনবাবু জানিয়েছেন, তাঁকে এসআইআরের নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তিনি যাবতীয় নথি দিয়েছেন। কিন্তু তাতেও ভোটাধিকার ফিরে পাননি। আরও কী তথ্য প্রয়োজন, সে বিষয়ে কিছু জানানো হল না। অথচ নাম বাদ হয়ে গেল! এখন কী করব জানি না। একই অবস্থা চুঁচুড়া-মগরা ব্লকের জয়পুর গ্রামের ২৮৮ নম্বর বুথের শম্ভু পয়ালের। তাঁর বয়স ৫০ বছর। বাবার নাম জগন্নাথ পয়াল। ২০০২ সালের তালিকায় সেই নাম হয়ে গিয়েছিল জগবন্ধু পয়াল। তারপর সংশোধনও হয়। একাধিকবার সেই প্রবীণ ভোটও দিয়েছেন। কিন্তু জগন্নাথ-জগবন্ধু বিতর্কে নাম বাতিলের খাতায় ঢুকেছে শম্ভুবাবুর নাম। বিপদ আরও বেড়েছে তাঁর বাবা প্রয়াত হওয়ায়। শম্ভুবাবু বলেন, যাবতীয় নথি দিয়েছি। কিন্তু মৃত বাবাকে হাজির করা তো সম্ভব নয়।
নামের জটিলতায় বিরাট সমস্যায় পড়েছেন হুগলির বলাগড়ের একদল সংখ্যালঘু নাগরিক। ‘শেখ’ শব্দটি কখনও নামের আগে এবং কখনও পরে কেন বসেছে? এই যুক্তিতে গুচ্ছ গুচ্ছ নাম বিচারাধীন হয়ে গিয়েছে। একইভাবে সংখ্যালঘু মহিলাদের নামের বানান বিভ্রাট, বিবি-খাতুন-বেওয়া শব্দ ব্যবহারের জটিলতায় গুচ্ছ নাগরিকের ভোটাধিকার সংশয়ের আবর্তে চলে গিয়েছে। বলাগড়ের গুপ্তিপাড়া-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন উপপ্রধান বিশ্বজিৎ নাগ বলেন, যান্ত্রিক চিন্তাভাবনার জেরেই এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু সমস্যার সমাধান কোন পথে হবে, সেটাই বোঝা যাচ্ছে না। 
সমস্যার সমাধান সূত্র নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়ায় হুগলি জেলায় সংকটের আবহ তৈরি হয়েছে। তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। নাগরিকদের বড়ো অংশের অভিযোগ, দিনের পর দিন অফিস-ব্যবসার ক্ষতি করে এক থেকে দু’দফায় শুনানিতে হাজির দিয়ে তাহলে লাভ কী হল? আপাতত এই প্রশ্নের উত্তর মিলছে না।

সম্পর্কিত সংবাদ