


সংবাদদাতা, বসিরহাট: কয়েকদিন আগে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদায় ভোটার তালিকায় বাংলাদেশের বিএনপি দলের এক নেতার নাম পাওয়া যায়। বিস্তর বিতর্কও হয় তা নিয়ে। এই আবহে এবার এক দম্পতির হদিশ মিলল, যাঁদের ভারতের ভোটার তালিকায় নাম থাকার পাশাপাশি রয়েছে বাংলাদেশের ভোটার কার্ডও। এখন তাঁরা ভারতেই পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেছেন বলে দাবি। বিষয়টি নিয়ে তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে বসিরহাটের হাসনাবাদে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে দম্পতির দেখাও মিলছে না। তবে, এই ঘটনার কথা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য। বিষয়টি খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জানা গিয়েছে, ওই দম্পতির নাম আকবর আলি গাজি ও ফারহানা গাজি। কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ঢাকার বাসিন্দা তাঁরা। তাঁদের দুই মেয়ে রয়েছে। আকবর আলির সচিত্র পরিচয়পত্রে দেখা যাচ্ছে, তিনি ২০১৭ সালে ভোটার হন বাংলাদেশের। পরবর্তী সময়ে তাঁর স্ত্রী ফারহানার নামও ওঠে বাংলাদেশের ভোটার তালিকায়। এরপর ২০১৯ সালে তাঁরা বাংলাদেশ থেকে চলে আসেন ভারতে। হাসনাবাদের মাখালগাছা পঞ্চায়েত এলাকায় বসবাস শুরু করেন। সত্তরোর্ধ্ব আকবরের ভাইপো গিয়াসউদ্দিন গাজির বাড়ি রয়েছে এখানে। অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে আসার পর আত্মীয়ের বাড়িতেই আশ্রয় নেন দম্পতি। তারপর বাংলাদেশে আর ফিরে যাননি তাঁরা। ২০১৯ সালে ভারতের ভোটার তালিকায় নামও উঠে যায় তাঁদের। বিরোধীদের অভিযোগ, ওই দম্পতির নাম ভারতীয় ভোটার তালিকায় তুলতে সাহায্য করেছেন তৃণমূলের মাখালগাছা অঞ্চলের সম্পাদক গিয়াসউদ্দিনই। ক্ষমতার বলেই এই অনৈতিক ও বেআইনি কাজ করেছেন তিনি। তৃণমূলের স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ইবাদুল সানা বলেন, ‘বিষয়টি বিভিন্ন দপ্তরে জানানো হয়েছিল। কাজ হয়নি। আমরা চাই প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। ওঁরা ২০১৯ সালে ভারতের ভোটার হন। আমি তখন সদস্য হইনি। এখন শুনছি, আকবর এখানে জমিও কিনেছেন।’ তৃণমূল নেতা গিয়াসউদ্দিন গাজি বলেন, ‘কাকা কর্মসূত্রে বাংলাদেশে থাকেন। ওঁর জন্ম ভারতে। মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনাও করেছেন হাসনাবাদে। যদি দু’দেশে নাম থাকে, তাহলে একটা তালিকা থেকে নাম বাদ যাবে।’ বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্য বলেন, ‘এটাই চলছে। এসব কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।’