


নয়াদিল্লি: ভারতকে আক্রমণ করতে গিয়ে এবার নিজের দেশেই কড়া সমালোচনার মুখে পড়লে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো। রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে এলন মাস্কের সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থা এক্স। রবিবার এক্স হ্যান্ডলে ভারতকে ফের আক্রমণ করেন ট্রাম্প প্রশাসনের ওই শীর্ষকর্তা। কিন্তু এক্সের তরফে ‘ফ্যাক্ট চেক’ করে জানিয়ে দেওয়া হয়, ‘রাশিয়া থেকে পণ্য আমদানি নিয়ে দ্বিচারিতা করছেন নাভারো। কোটি কোটি ডলারের পণ্য রাশিয়া থেকে আমদানি করে আমেরিকাও। অথচ, তারাই রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করার জন্য ভারতের উপর চাপ দিচ্ছে।’ এই ফ্যাক্ট চেকের জেরে মাস্কের উপর রেগে আগুন নাভারো। নয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, মাস্ক ভুয়ো তথ্য ছড়াচ্ছেন। এক্সের দাবির কোনও ভিত্তিই নেই।
কিছুদিন ধরেই ভারত ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করে চলেছেন নাভারো। ইউক্রেন যুদ্ধকে ‘মোদির যুদ্ধ’ ও ভারতকে ‘শুল্কের মহারাজা’ বলে বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। এখানেই শেষ নয়। বেজিং এসসিও শীর্ষ সম্মেলন প্রসঙ্গে ফের সুর চড়িয়ে বলেন, ‘মোদি কেন পুতিন আর জিনপিংয়ের সঙ্গে এক শয্যায় যাচ্ছেন বুঝতে পারছি না।’ তিনি দাবি করেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনার ফলে ভারতের ব্রাহ্মণরাই শুধু মুনাফা লুটছে। রবিবারও এব্যাপারে তিনি লেখেন, ভারত সর্বোচ্চ হারে শুল্ক চাপানোয় মার্কিন নাগরিকদের চাকরি যাচ্ছে। ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনছে শুধুমাত্র লাভের জন্য। ওই টাকা দিয়ে রাশিয়া যুদ্ধ চালাচ্ছে। অথচ ভারত এই সত্যিটা মানতে চায় না। কিন্তু নাভারোর এই বক্তব্যের নীচে কমিউনিটি পোস্টে এক্স জানায়, ভারত জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য রাশিয়ার তেল কিনছে, শুধু লাভের জন্য নয়। এতে কোনও নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনও হচ্ছে না। আমেরিকাও তো রাশিয়া কাছ থেকে বেশ কিছু সামগ্রী কিনে থাকে, এটা ভণ্ডামি।’
এতেই প্রবল ক্ষুব্ধ নাভারো লেখেন, ‘এখন মাস্ক অন্যের পোস্টে ঢুকে নিজের বক্তব্য প্রচার করছেন। আমার পোস্টের নীচের মন্তব্য জঘন্য। ভারত শুধু লাভের জন্যই রাশিয়া থেকে তেল কেনে। রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ করার আগে তো ওরা তেল কিনত না। ভারতের মেরুদণ্ড বেঁকে যাচ্ছে। ইউক্রেনের নাগরিকদের হত্যা বন্ধ করুন। মার্কিনদের চাকরি কেড়ে নেওয়া বন্ধ করুন।’ তাতে পাল্টা এক্স ‘পাঠকদের কিছু তথ্য জানা উচিত’ শিরোনামে লেখে, জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ভারতের রুশ জ্বালানি তেল ক্রয় কোনও আন্তর্জাতিক আইন ভাঙছে না। আমেরিকা যখন ভারতকে চাপ দিচ্ছে, তখন নিজেরাই রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম সহ কয়েকশো কোটি ডলারের সামগ্রী কিনছে। এটা পরিষ্কার দ্বিচারিতা।