নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: প্রথম দফার পুলিস হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মধ্যমগ্রামে পিসিশাশুড়িকে খুনের ঘটনায় ধৃত ফাল্গুনী ঘোষকে সোমবার বারাসত আদালতে তুলল পুলিস। এদিন বিচারক তাকে আরও তিনদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে, এদিনই ফাল্গুনীর শ্বশুর সুবল ঘোষকে মধ্যমগ্রাম থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা।
জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে অসমের জোড়হাটের বাসিন্দা সুবল ঘোষের ছেলে শুভঙ্করের সঙ্গে বিয়ে হয় ফাল্গুনীর। মধ্যমগ্রামের দক্ষিণ বীরেশপল্লির ভাড়াবাড়িতে ফাল্গুনী ও তার মা আরতি ঘোষ সুবলবাবুর বোন সুমিতা ঘোষকে খুন করে বলে অভিযোগ। খুনের কথা জানার পরই বউমার আচরণ নিয়ে মুখ খোলেন শ্বশুর। শিলিগুড়িতে মামাশ্বশুরের বাড়ি থেকে ফাল্গুনী সোনার গয়না ও নগদ টাকা চুরি করেছিল বলে জানান তিনি। এছাড়া, ফাল্গুনীর নেশা করা, স্বামীকে ব্ল্যাকমেল থেকে শুরু করে উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। একরত্তি নাতির মৃত্যুর জন্যও তার মা ফাল্গুনীকেই দায়ী করেন শ্বশুর। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে পুলিসের তলবে সোমবার অসম থেকে মধ্যমগ্রাম থানায় আসেন সুবলবাবু। তাঁকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিস। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, সুমিতাদেবীর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক কেমন ছিল, ফাল্গুনী সম্পর্কে তাঁর শ্বশুর যেসব মন্তব্য সংবাদমাধ্যমে করেছেন, তার ভিত্তি কী ইত্যাদি বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে। মামলার সরকারি আইনজীবী মেহতাব আলম বলেন, ‘তদন্তের অগ্রগতি হয়েছে। পুলিস বিচারকের কাছে ফাল্গুনীর পাঁচ দিনের হেফাজতের জন্য আবেদন করেছিল। বিচারক তিনদিন মঞ্জুর করেছেন।’