সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নবরূপে ফিরছে রামপুরহাটের একমাত্র সাংস্কৃতিক মঞ্চ রক্তকরবী। সাংসদ তহবিল থেকে প্রায় এক কোটি টাকা বরাদ্দ করলেন শতাব্দী রায়। বৃহস্পতিবার রামপুরহাটের দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে এমনটাই জানিয়েছেন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত শহরের সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষরা।
বীরভূম জেলার নাট্য ও সংস্কৃতি চর্চার প্রাণকেন্দ্র রামপুরহাট। ১৯৯৫ সালে টাউন হল কর্তৃপক্ষের দান করা ১৫ কাঠা জায়গায় পুরমঞ্চ নির্মাণ কাজের শিলান্যাস করেন তৎকালীন গ্রন্থাগার মন্ত্রী তপন রায়। ২০০৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সেই অসম্পূর্ণ রক্তকরবী মঞ্চের উদ্বোধন করেন চিত্র পরিচালক তরুণ মজুমদার। ৫২৬ আসন বিশিষ্ট মঞ্চটি পর্যাপ্ত আলো, পাখা ও সাউন্ড সিস্টেম ছাড়াই পথ চলা শুরু করে।
২০১৬ সালে রাজ্যের আর্থিক অনুমোদন ছাড়াই মঞ্চটি আধুনিক মানের করে তোলার কাজ শুরু করেন পুরসভার তৎকালীন পুরপ্রধান। ব্যয় ধার্য হয় প্রায় ন’ কোটি টাকা। সাংসদ শতাব্দী রায় সেই সময়ে ৬৬ লক্ষ টাকা দেন ও পুরদপ্তর দেয় ১ কোটি ১২ লক্ষ টাকা। সেই টাকায় মঞ্চের উপরের টিন বদলে অ্যাসবেসটস বসানো, অডিটোরিয়ামের চার দেওয়াল ছাড়াও সিলিংয়ে উন্নতমানের ম্যাগনেসিয়াম বোর্ড, ব্যালকনি, সেন্ট্রালি এসি ও বাইরের ‘লুক’ পরিবর্তন করা হয়। এরপরই অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে যায় সংস্কার। পুরসভা সূত্রে খবর, রাজ্যের আর্থিক অনুমোদন ছাড়াই সংস্কারের কাজে হাত দেওয়ায় এই অবস্থা হয়েছিল। টাকার অভাবে সেন্সর, অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা, বসার জন্য পুশ ব্যাক সিট, স্টেজ, লাইট এবং ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম সহ বেশকিছু কাজ বাকি রয়েছে। অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় প্রায় আট বছর ধরে পড়ে রয়েছে রক্তকরবী। ফলে যেটুকু সংস্কার হয়েছে সেগুলিও নষ্ট হতে বসেছে। সেই সঙ্গে মঞ্চের অভাবে শহরের সাংস্কৃতিক চর্চাও তলানিতে এসে ঠেকেছে। যা নিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মীদের মনে ক্ষোভের পাহাড় জমেছে। অর্থ চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী থেকে পুরমন্ত্রী, কারও দ্বারস্থ হতে বাকি রাখেননি আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও পুরসভার চেয়রাম্যান সৌমেন ভকত।
শেষ পর্যন্ত গত বছরের জানুয়ারি মাসে বোলপুরে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রক্তকরবীর বিষয়টি তুলে ধরেন শতাব্দী রায়। মুখ্যমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেন। সেইমতো এবছরের শুরুতে ইউডিএমএ থেকে দু’ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। তার মধ্যে এক কোটি টাকা পেয়েও পায় পুরসভা। চেয়ারম্যানের দাবি, সেই টাকায় সিভিল ওয়ার্ক ছাড়া অন্য কোনও কাজে হাত লাগানো যায়নি। ফলে রক্তকরবী খোলা যায়নি। অবশেষে শতাব্দী রায় তাঁর এমপি ল্যাড থেকে ৯৫ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা বরাদ্দ করলেন। এদিন চেয়ারম্যানকে পাশে বসিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে আশিসবাবু এমনটাই জানান। তিনি বলেন, সাংসদ চান রক্তকরবী মঞ্চ জেলার সংস্কৃতি মানচিত্রে উজ্জ্বল হয়ে উঠুক। সে জন্যই তিনি আরও প্রায় এক কোটি টাকা দিয়েছেন। এছাড়া ইউডিএম থেকেও বাকি এক কোটি টাকা নিয়ে আসারও চেষ্টা করব। তারপরও কিছু টাকার প্রয়োজন পড়লে বিধায়ক তহবিল থেকে দেব। এদিন এজেন্সিকে দ্রুত কাজ শুরু করে ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করতে বলার পাশাপাশি নিজে তদারকি করবেন বলে জানান আশিসবাবু।
চেয়ারম্যান বলেন, আধুনিক মানের করে তুলতে যা যা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তা সবই হচ্ছে। শুধুমাত্র সোলার সিস্টেম আর পুশ ব্যাক সিট হচ্ছে না।