


তেল আভিভ: কাতারে ইজরায়েলি বাহিনীর হামলার বিরোধিতায় তাদেরই গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ। সম্প্রতি প্রকাশিত রিপোর্টে এমনটাই দাবি করেছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। মঙ্গলবার আকাশপথে কাতারে হামাসের রাজনৈতিক শাখার দফতরে হামলা চালায় আইডিএফ। সরাসরি হামলার বিরোধিতা করেছিল মোসাদ। মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে একথা জানিয়েছেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দেশের দুই আধিকারিক। ঠিক কী কারণে এই হামলার বিরোধিতা করল ইজরায়েলি গুপ্তচর সংস্থা? গুপ্তচর সংস্থার প্রধান ডেভিড বার্নিয়া বলেন, ‘কাতারের প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। এই পদক্ষেপের জেরে তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।’ আক্রমণের সময় ও ধরন নিয়েও আপত্তি তুলেছিল মোসাদ। তারা জানিয়েছে, ‘আজ থেকে এক, দুই বা চার বছরের মধ্যে এই কাজটা করতে পারতাম। মোসাদ জানে কীভাবে কাজ করতে হয়। তাহলে এই মুহূর্তে হামলা চালানো হল কেন?’ বৈঠকে হামলা সংক্রান্ত পরিকল্পনার বিরোধিতা করেন আইডিএফ প্রধান লেফ্টেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির। তবে নেতানিয়াহুর পাশে ছিলেন কৌশল বিষয়কমন্ত্রী রন ডার্মার ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ।
আন্তর্জাতিক মহলের মতে, যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে ধৈর্য হারিয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। তাই গাজার বাইরেও হামাস নিধনে নেমেছেন তিনি। হামলার পরেই হুঁশিয়ারির সুরে নেতানিয়াহু বলেন, ‘কাতার সহ বহু রাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দেয়। আপনারা হয় ওদের তাড়িয়ে দিন নাহলে বিচার করুন। সেটা না করলে আমাদেরই দায়িত্ব হাতে তুলে নিতে হবে।’ ইজরায়েলের এই চোখরাঙানিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ দোহা। উল্টে তাদের মাটিতে হামলা চালানো নিয়ে নেতানিয়াহু বাহিনীর তীব্র নিন্দা করেছে সেদেশর প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধে ইতি টানার চেষ্টা চালাচ্ছে পশ্চিম এশিয়ার এই দেশটি। মঙ্গলবারের হামলা কি যাবতীয় চেষ্টায় জল ঢেলে দিল? চিন্তায় মোসাদ।