নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লক্ষ্মীর ভাণ্ডরের টাকা আসল প্রাপকের কাছে না গিয়ে জমা পড়ছিল অন্য মহিলার অ্যাকাউন্টে। টাকা না পেয়ে অভিযোগ জানান দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পলতার এক মহিলা। তদন্তে জানা যায়, দু’বছরের বেশি সময় ধরে এই টাকা জমা পড়ছিল মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরের বাসিন্দা শুকতারা বিবির অ্যাকাউন্টে। মোট ২৩ হাজার টাকা জমা পড়েছে সেখানে।
জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসার পরই তদন্তে নামে ডায়মন্ডহারবার পুলিস জেলার সাইবার ক্রাইম থানা। শুকতারা বিবিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। তদন্তকারীদের সন্দেহ, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের নথি আপলোড করার দায়িত্বে থাকা দুয়ারে সরকার ক্যাম্প বা পঞ্চায়েত অফিসে কর্মরত কোনও চুক্তিভিত্তিক কর্মী এই ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। এর পিছনে যে বড় চক্র রয়েছে তা নিশ্চিত তদন্তকারীরা।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা নাজমা বেগম লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য ২০২৩ সালে আবেদন করেন। তাঁর আবেদনপত্র জমা পড়েছে বলে মোবাইলে মেসেজও আসে। কিন্তু দু’বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও তিনি কোনও টাকা পাননি। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তাঁর নামে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চলছে। টাকা জমা পড়ছে অন্য অ্যাকাউন্টে। বিষয়টি জেলাশাসকের দপ্তরে গিয়ে পৌঁছয়। জেলা প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে ধরা পড়ে, নাজমার টাকা যাচ্ছে শুকতারা বিবির অ্যাকাউন্টে। শুকতারার বাড়ি মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে। ২০২৩ এপ্রিল থেকে ২০২৫ জুলাই পর্যন্ত ২৩ হাজার টাকা জমা পড়ে। এরপর জেলাশাসকের দপ্তর থেকে শুকতারাকে নোটিস পাঠিয়ে জানতে চাওয়া হয় কীভাবে অন্যের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা তার অ্যাকাউন্টে এল? টাকা ফেরত দিতে বলা হয়। কিন্তু কোনও উত্তর না আসায় ডায়মন্ডহারবার সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিস প্রতারণার মামলা রুজু করে রবিবার গ্রেপ্তার করে শুকতারাকে।
তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে শুকতারার অ্যাকাউন্টে ছেলের মোবাইল নম্বর দেওয়া রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিস জেনেছে, সে দুয়ারে সরকার শিবিরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদন করেছিল। কিন্তু প্রথমবার আবেদন গৃহীত হয়নি। বছর খানেক পর দ্বিতীয়বার আবেদন করলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পায়। তদন্তকারীদের অনুমান, দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে জমা পড়া নথি বিভিন্ন হাত ঘুরে জালিয়াতদের হাতে এসেছে। এরপর তার নামে একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। ওই অ্যাকাউন্টটি জালিয়াতরা সংযুক্ত করেন নাজমার আবেদনের সঙ্গে। যে কারণে আসল প্রাপকদের কাছে টাকা যায়নি। তদন্তকারীদের সন্দেহ এক্ষেত্রে নথি বিক্রির বড় চক্র রয়েছে। এক্ষেত্রে পঞ্চায়েত বা দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে যাঁরা নথি জমা নিয়েছেন, তাঁদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।