নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ইরান-ইজরায়েলের যুদ্ধ। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হওয়ার পরেও ‘মৌন’ মোদি। আমেরিকার কাছে আত্মসমর্পণের অভিযোগ। রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির মতো ইস্যুতে সোমবার বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিনেই উত্তাল সংসদ। বিরোধীদের বিক্ষোভের জেরে বার বার মুলতুবি সদন। রাজ্যসভা থেকে সারাদিনের জন্য বিরোধীরা করল ওয়াক আউট। যার জেরে স্পিকার ওম বিড়লার প্রতি বিরোধীদের আনা প্রতি অনাস্থা প্রস্তাবের আলোচনায় সরকার রাজি থাকলেও এদিন তা হলই না। সরকারকে ‘গুগলি’ দিল বিরোধীরা।
অনাস্থার আলোচনার পরিবর্তে এদিন বিরোধীরা সোচ্চার হল, উদ্ভূত বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে হোক চর্চা। সেই মতো সংসদ চত্বর থেকে শুরু করে অন্দরে বিরোধীরা বিক্ষোভ দেখাল। সভার মধ্যে ওয়েলে নেমে লাগাতার চলল স্লোগান—মোদি দেশ কো বেচ কে আয়া। বেচ দিয়া ভাই বেচ দিয়া। পিএম ইজ কম্প্রোমাইজড। নরেন্দর সারেন্ডার। কংগ্রেসের নেতৃত্বে তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে সহ সমগ্র বিরোধীরা উত্তাল করল লোকসভা।
বিরোধীদের এই আচরণে ক্ষুব্ধ সরকার পক্ষের হয়ে সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু লোকসভায় বললেন, বিরোধীরা দায়িত্বজ্ঞানহীন। স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে আমরা যখন আলোচনায় রাজি, তখন কেন কংগ্রেস তা পেশ করছে না। হিম্মত হ্যায় তো আলোচনা শুরু করে। স্পিকারের আসনে উপস্থিত বিজেপির জগদম্বিকা পালও বলেন, এভাবে প্লাকার্ড হাতে স্লোগান সহ হাঙ্গামা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। আপনারা জনগণের টাকা বরবাদ করছেন। সংসদ চালাতে মিনিট প্রতি আড়াই লক্ষ টাকা, প্রতি ঘণ্টায় দেড় কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। দিনে ৯ কোটি। ফলে এভাবে সময় নষ্ট না করে আলোচনা শুরু করুন।
কিন্তু কে শোনে সভাপতির কথা। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দলকে বলে দিয়েছেন, শোরগোল করতেই হবে। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হোক। বিরোধীদের এই স্ট্র্যাটেজিতে সরকার বোকা বনে গেল। তারা চেয়েছিল ১০ ঘণ্টার আলোচনায় সংসদে শক্তি প্রদর্শন করবে। কিন্তু বিরোধীরা তা ভেস্তে দিল। তবে আজ মঙ্গলবার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থার আলোচনা করব
বলেই বিরোধীদের পক্ষে জানিয়েছেন কংগ্রেসের লোকসভার মুখ্যসচেতক কে সুরেশ। তবে সরকার যদি সময় টানতে চায়, তা হবে না। আজ বিকাল পাঁচটার মধ্যেই শেষ করতে হবে। যদিও তা মানবে কি মোদি সরকার? প্রশ্ন সেটাই। প্রতিবাদ বিরোধী শিবিরের। ছবি: পিটিআই