Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আবার নাগরিকত্বের ‘গাজর’ ঝুলিয়েই ভোট ভিক্ষা মোদির, ফুঁসছেন মতুয়ারা, নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের নিয়ে নেই কোনো বার্তা

ভোটের বাজারে নাগরিকত্ব ইস্যুতে ফের আলোচনার কেন্দ্রে মতুয়া অধ্যুষিত বনগাঁ মহকুমা। বহু বছরের প্রতিশ্রুতি, আইন প্রণয়ন, বিজ্ঞপ্তি—সবকিছুর পরেও মতুয়া, উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব অধরা।

আবার নাগরিকত্বের ‘গাজর’ ঝুলিয়েই  ভোট ভিক্ষা মোদির, ফুঁসছেন মতুয়ারা, নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের নিয়ে নেই কোনো বার্তা
  • ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বনগাঁ: ভোটের বাজারে নাগরিকত্ব ইস্যুতে ফের আলোচনার কেন্দ্রে মতুয়া অধ্যুষিত বনগাঁ মহকুমা। বহু বছরের প্রতিশ্রুতি, আইন প্রণয়ন, বিজ্ঞপ্তি—সবকিছুর পরেও মতুয়া, উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব অধরা। এনিয়ে ক্ষোভ তো ছিলই। সেই ক্ষোভ আরও জমাট বেঁধেছে সাম্প্রতিক এসআইআর-কে কেন্দ্র করে। এই প্রেক্ষাপটে রবিবার ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়ির সভামঞ্চ থেকে নাগরিকত্ব নিয়ে ফের আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মতুয়া ও নমঃশূদ্রদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। সমস্ত অধিকারও মিলবে। এটা মোদির গ্যারান্টি।’ ওয়াকিবহাল মহলের মতে, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণায় রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট হলেও বাস্তবের জটিল প্রশ্নগুলি অমীমাংসিতই রয়ে গেল। কবে নাগরিকত্ব মিলবে, তার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেননি মোদি। এসআইআরে যাঁদের নাম ইতিমধ্যে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়েও নিশ্চুপ ছিলেন তিনি। ফলে আশ্বাস মিললেও অনিশ্চয়তা একই জায়গায় রয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের পর থেকে মতুয়াদের সামনে নাগরিকত্বের ‘গাজর’ ঝুলিয়ে রেখেছে বিজেপি। কাজের কাজ কিছু হয়নি। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে এই ঠাকুরনগরে দাঁড়িয়ে একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সময় মতুয়া সমাজের বড়ো অংশ নাগরিকত্বের আশায় বিজেপির দিকে ঝুঁকেছিল। তারপর দেখতে দেখতে সাত বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত। প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। উলটে এসআইআরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, নাগরিকত্ব তো দূরের কথা, ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা যাচ্ছে ভালো সংখ্যায়। ফলে যে নাগরিকত্বের আশ্বাস একসময় মতুয়াগড়ে বিজেপির রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলেছিল, সেই ভিত এখন নড়বড়ে। সেটাই বিজেপিকে অবিশ্বাসের কারণ হয়ে দেখা দিচ্ছে ভোটমুখী বনগাঁয়। সরকারি হিসাব বলছে, বনগাঁ মহকুমায় এসআইআরের প্রথম দফায় খসড়া তালিকায় বাদ গিয়েছিল ৩৬ হাজার ৯০১ জনের নাম। পরবর্তী পর্যায়ে চারটি বিধানসভা এলাকায় বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা ছিল ৬১ হাজার ৪৮০। সেই তালিকা খতিয়ে দেখে ৪৮ হাজার ৪৯৩ জনকে ‘অযোগ্য’ ভোটার হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখান থেকে মাত্র ১২ হাজার ৯৮৭ জন ঠাঁই পেয়েছেন তালিকায়। সব মিলিয়ে বনগাঁ মহকুমায় মোট ৮৫ হাজার ৩৯৪ জনের নাম বাদ যাওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। বিধানসভা ভিত্তিক ছবিটা আরও তাৎপর্যপূর্ণ। বাগদায় ১৩ হাজার ৪৫৯ জন বিচারাধীন ভোটারের মধ্যে ১০ হাজার ১৭ জনের নাম বাদ পড়েছে। বনগাঁ উত্তরে ১২ হাজার ২৯৬ জনের মধ্যে বাদ গিয়েছে ৮ হাজার ২৮০ জনের নাম। বনগাঁ দক্ষিণে ১৩ হাজার ৪৪৭ জনের মধ্যে ‘অযোগ্য’ হিসাবে চিহ্নিত ১০ হাজার ৫৫৮ জন। সবথেকে বড়ো ধাক্কা গাইঘাটায়। যেখানে ২২ হাজার ২৭৮ জন বিচারাধীন ভোটারের মধ্যে ১৯ হাজার ৬৩৮ জনকেই ‘অযোগ্য’ বলে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সেই বিধানসভা এলাকাতেই এদিন সভা করেন প্রধানমন্ত্রী। 

Advertisement

স্বভাবতই নাগরিকত্ব ও এসআইআর ইস্যুতে বিজেপিকে আক্রমণ আরও তীব্র করেছে তৃণমূল। দলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতা ঠাকুর বলেন, ‘নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বছরের পর বছর মতুয়া ভোটব্যাংককে ব্যবহার করেছে বিজেপি। ভোট এলেই মতুয়াদের কথা মনে পড়ে। আসলে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের নিয়ে ছেলেখেলা করছে বিজেপি। মতুয়াদের সর্বনাশ করে দিয়েছে ওরা।’ সেই সঙ্গে তাঁর দাবি, ‘এবার সমীকরণ আগের মতো সরল নয়। কারণ, প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবের ফারাক চোখে পড়ার মতো বড়ো হয়ে উঠেছে।’ রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ঠাকুরনগরের সভায় প্রধানমন্ত্রী সেই একই আশ্বাস দেওয়ায় তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই জোরালো প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। এই সংশয়ই এবারের ভোটে বড়ো ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে তারা। 

সম্পর্কিত সংবাদ