


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মিক্সোপ্যাথি! গুঞ্জন শুরু হয়েছিল বেশ কিছুদিন। তবে কি সেটাই এবার বাস্তবে করতে চলেছে মোদি সরকার? অ্যালোপ্যাথির সঙ্গে আয়ুর্বেদ? দুই ডিগ্রি কোর্স একসঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য রাষ্ট্রমন্ত্রী তথা আয়ুশমন্ত্রকের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতাপরাও জাদভ। আর তাতেই প্রতিবাদে সরব সর্বভারতীয় চিকিৎসক সংগঠন ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ)। প্রশ্ন তুলেছে, রোগীরা কি গিনিপিগ নাকি? দুই পন্থার দাওয়াই তাদের ওপর একসঙ্গে প্রয়োগ করা হবে? স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডাকে চিঠি লিখে অবিলম্বে এই পরিকল্পনা বাতিলের দাবি করছেন চিকিৎসকরা।
ক্ষমতায় আসার পর প্রাচীন চিকিৎসা ব্যবস্থা আয়ুর্বেদ, ইউনানি, সিদ্ধায় জোর দিয়েছে মোদি সরকার। আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের একটি অংশ হিসেবে আয়ুশ যুক্ত ছিল। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালের নভেম্বরে তৈরি করেন পৃথক আয়ুশ মন্ত্রক। আয়ুর্বেদ, যোগা, ইউনানি, সিদ্ধা এবং হোমিওপ্যাথি, এই পাঁচটির আদ্যাক্ষর নিয়ে আয়ুশ। করোনার সময়কালে আয়ুশ দাওয়াই অনেক বেশি করে প্রচারেও আনা হয়। সেই রেশ বজায় রেখেই অ্যালোপ্যাথি এবং আয়ুশ, দুটিকে মিশিয়ে মেডিকেল কোর্স শুরু করার ভাবনাচিন্তা করছে কেন্দ্র।
পুদুচেরিতে রয়েছে জওহরলাল ইনস্টিটিউট অব পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিকেল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (জিপমার)। সেখানে এই মিক্স কোর্স শুরু করা হবে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন মন্ত্রী। মিশিয়ে দেওয়া হবে এমবিবিএস (ব্যাচেলব অব মেডিসিন অ্যান্ড ব্যাচেলর অব সার্জারি) এবং বিএএমএস (ব্যাচেলর অব আয়ুর্বেদিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি)। দুটি ক্ষেত্রেই আলাদা করে ডিগ্রি কোর্স সম্পূর্ণ করতে সময় লাগে সাড়ে পাঁচ বছর। সাড়ে চার বছর পড়াশোনা (অ্যাকাডেমিক)। এক বছর আবশ্যিক ইন্টার্নশিপ।
কিন্তু দুটিকে মিশিয়ে কোর্স শুরু করলে আদতে হবু চিকিৎসকদের যেমন ধন্দ্ব বাড়বে, একইভাবে রোগীদেরও। এমনই মত আইএমএ’র। তারাই সরকারের এই কোর্সকে নাম দিয়েছে ‘মিক্সোপ্যাথি।’ প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ডাঃ দিলীপ ভানুশালি বলেন, চীন একসময় ঠিক এই কাজ করেছিল। কিন্তু সফল হয়নি। তাছাড়া ভারতের চিকিৎসা ব্যবস্থা কি চীন মডেল অনুকরণ করবে? ভারতে রয়েছে ৭৭৯ টি মেডিকেল কলেজ। ফি বছর ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৩২৫ জন এমবিবিএস ডাক্তার তৈরি হয়। ভারতের উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার জোরেই ১৯৪৭ সালে যেখানে মানুষের গড় আয়ু ছিল ৩২ বছর, এখন তা ৭০প্লাস।
আইএমএ’র সদ্য প্রাক্তন সভাপতি ডাঃ আর ভি অশোকন বলেন, সরকার এই মিক্সোপ্যাথির কোর্স শুরু করলে চিকিৎসকরা কোনওটিই কেউ ভালো করে শিখতে পারবে না। মানুষও ধন্দে পড়বে। তাদের কোনওভাবেই গিনিপিগ বানানো যায় না। আদতে চিকিৎসা বিভ্রাট ঘটবে। কোনওভাবেই এটা চালু হওয়া উচিত নয়। জুনিয়র ডাক্তারদের সংগঠন ‘আইএমএ জুনিয়র ডক্টরস নেটওয়ার্ক’ও একইভাবে প্রতিবাদে সরব।