Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে আর দাঁড়িয়ে পড়বে না যাত্রীবোঝাই মেট্রো

বড়সড় বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটলেও পাতালপথে থমকে যাবে না যাত্রীবোঝাই মেট্রোর রেক। উৎকন্ঠার প্রহর গুনতে হবে না হাজার হাজার যাত্রীকে।

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে আর দাঁড়িয়ে পড়বে না যাত্রীবোঝাই মেট্রো
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:০২

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বড়সড় বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটলেও পাতালপথে থমকে যাবে না যাত্রীবোঝাই মেট্রোর রেক। উৎকন্ঠার প্রহর গুনতে হবে না হাজার হাজার যাত্রীকে। এই ধরনের আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের প্রথম মেট্রো রুটে চালু হল অত্যাধুনিক ব্যবস্থা। যার পোশাকি নাম ‘ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম’ বা বিইএসএস। ভারতীয় রেলের পাওয়ার স্টোরেজ ব্যবস্থার ভোল বদলে দিতে বুধবার সেন্ট্রাল মেট্রো স্টেশনে প্রথম এই বিইএসএস ব্যবস্থাপনা কাজ শুরু করল। উল্লেখ্য, এই নর্থ-সাউথ মেট্রো করিডর চার দশকের পুরানো। কিছুটা পাতালপথে এবং কিছুটা মাটির উপর দিয়ে গিয়েছে মেট্রো লাইন। সাম্প্রতিক অতীতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে একাধিকবার টানেলের মধ্যে মেট্রো রেকের চাকা থমকে গিয়েছে। শুধু রেক দাঁড়িয়ে পড়াই নয়, আলো-এসি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। মেট্রো থেকে নামার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয় মাঝেমধ্যে। সব মিলিয়ে পরিষেবা লাটে উঠে।

Advertisement

এতদিনে এই যন্ত্রণার স্থায়ী সমাধান হতে চলেছে বলে আশাবাদী মেট্রো কর্তারা। তাঁদের মতে, বিইএসএস চালু হওয়ার পর বিদ্যুৎ বিপর্যয় কিংবা পাওয়ার গ্রিড বসে গেলেও মেট্রো রেক সচল থাকবে। জরুরি পরিস্থিতিতে বিইএসএস থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পৌঁছবে রেকে। ব্যাটারি চালিত এই ব্যবস্থা থেকে পাওয়া বিদ্যুতে মেট্রো রেক ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটার বেগেও ছোটানো সম্ভব। তবে শুধু মেট্রো রেকই নয়, টানেলের মধ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা ও এনভায়রনমেন্ট কন্ট্রোল সিস্টেমও বিইএসএসের মাধ্যমে কাজ করবে। সেক্ষেত্রে বিদ্যুৎ চলে গেলেও মেট্রো টানলেরে মধ্যে যাত্রীদের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হবে না। ইনভার্টার ও অ্যাডভান্স কেমিস্ট্রি সেলের (এসিসি) মিশেলে তৈরি করা হয়েছে বিইএসএস। পরিবেশবান্ধব এই ব্যবস্থায় দূষণ হবে না। ব্যাটারিগুলির আয়ু ১৪ বছর। ২০২১ সালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছিল। দেশের বিখ্যাত এক পেশাদার সংস্থা গোটা পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত করেছে। আপদকালীন মুহূর্তে আধুনিক এই যন্ত্র কতটা যাত্রীবান্ধব হয়ে ওঠে, এখন সেটাই দেখার। 

সম্পর্কিত সংবাদ