


‘দাসোহহং’ ‘দাসোহহম্’ করতে করতে যখন ঠাকুরটির কৃপা দৃষ্টি পড়ে, তখন দা-টি কেড়ে নেন্, থাকে “সোহহং”। তবে যারা সংসার লুব্ধ, তপস্যাশূন্য, ভক্তিহীন তাদের ‘সোহহম্’ ‘ব্রহ্মাস্মি’ বকবাদ মাত্র। পরোক্ষ জ্ঞান অর্জ্জন করে তা যদি অপরোক্ষ করবার চেষ্টা করা না হয়— তার কোনই উপকার নেই। মন্ত্রটীকে অবলম্বন কর মন যখন চঞ্চল হবে তখন চেঁচিয়ে নাম কর—শান্ত হলে মন্ত্র জপ কর। তারপর লীলা-চিন্তা কর। নাম ও লীলাচিন্তা এ যুগে লঘূপায়। মরণপণ করিয়া ভক্ত যখন কাতরভাবে ডাকিতে থাকেন তখন তিনি দর্শনদান করেন— এ সম্বন্ধে কোন সংশয় নাই। শ্রীভগবান আছেন— আপন ভাবে ভজনকারী দর্শনার্থী ভক্তকে অদ্যাপি দর্শন দেন, ইহা সত্য-অতিসত্য—অতি মহাসত্য। দীক্ষার পর যতদিন পর্য্যন্ত শরীরে আনন্দ, কম্প, রোমাঞ্চ, স্বর-নেত্রাদির বিক্রিয়া না হয়, ততদিন বুঝতে হবে মন্ত্র চৈতন্য অর্থাৎ কুণ্ডলিনীর জাগরণ হয় নাই। শ্রীগুরুদেবের শরণাপন্ন হয়ে যাতে মন্ত্রচৈতন্য হয় তার চেষ্টা করা কর্ত্তব্য। যিনি ইষ্টদেবতা তিনি গুরুরূপে আসেন, তিনি মন্ত্ররূপে অধিষ্ঠিত হন। মন্ত্রসিদ্ধি হলে মন্ত্র দেবতায় লয় হয়। প্রাক্তন কর্ম্মবেশে যে যেমন অধিকার পেয়েছে তাকে সেই পথ ধরতে হবে, তাই ঋষিগণ বহুপথের কথা বলেছেন। আপনার সাধন করা পথে স্বাভাবিক অনুরাগ থাকবেই, সেইজন্য যে যেমন অধিকারী সে সেইরূপ পথ ধরে নেবে বলেই বহু পথের কথা প্রথমে শুনতে পাওয়া যায়। তারপর শেষে গিয়ে সব এক হয়ে যায়, শাক্ত, বৈষ্ণব, শৈব, সৌর, গাণপত্য, হিন্দু, মুসলমান, খৃষ্টান— সকলেই একটি পথে গিয়ে মিলিত হয়। বৈরাগ্য-বৈরাগ্য-বৈরাগ্য! কোন প্রয়োজন নাই বৈরাগ্যের। যেমন আছ সেইভাবে থেকে কেবল চেষ্টা কর সর্ব্বদা নাম করবার। নাম ভগবান্ একবার যদি তাঁকে ধরে থাকতে পারো তবে চিন্তা কি? যে রাজার কাছে সর্বদা থাকে সে দ্বারবান্গণের কৃপা ভিক্ষা কেন করবে! যার জিহ্বা নাম-গানে কুণ্ঠিত সে বৈরাগ্যের কথা ভাবুক। যে নাম কর্তে পারে বিবিক্ত, বৈরাগ্য, মুমুক্ষা শম-দমাদি ষট্ সম্পত্তি এই সাধন চতুষ্টয় তার পশ্চাৎ পশ্চাৎ ছুট্তে থাকে। পথিক সংসারকে সুধাসিন্ধু ভেবে তা’তে অবগাহন ক’রে বড় জ্বলছ, ফিরে এস সুহৃদ্! ফিরে এস প্রিয়তম! ও জল নয়— অগ্নি! এস, নাম-অমৃতসাগরে ডুব দাও, সবজ্বালা জুড়িয়ে যাবে, তুমি কৃতার্থ হবে— তোমার জনম-মরণ আর হবে না, তুমি জীবন্মুক্ত হ’য়ে যাবে।
দৈহিক বিভূতি-সিদ্ধি তিন প্রকার— (১) অণিমা— পরমাণুতুল্য সূক্ষ্মদেহধারণ সামর্থ্য। (২) মহিমা— দেহকে ইচ্ছামত বর্দ্ধন-শক্তি। (৩) লঘিমা— দেহকে অতিশয় হাল্কা করিবার ক্ষমতা।
ইন্দ্রিয়-সিদ্ধি দুই প্রকার (১) প্রাপ্তি— বিশ্বের যাবৎ-দ্রব্য করতলগত করিবার ক্ষমতা। (২) প্রাকাম্য— যাহা দেখা যায়, শ্রবণ করা যায় এইরূপ যাবতীয় পদার্থের ভোগ ও দর্শনাদি সামর্থ্য হওয়া।