Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মমতার সরকার দিচ্ছে, মোদি সরকার লুট করছে: অভিষেক

একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার দিচ্ছে। অন্যদিকে, নরেন্দ্র মোদির সরকার লুট করছে। উত্তরবঙ্গে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে নির্বাচনি প্রচারে এসে এভাবেই কেন্দ্রকে বিঁধলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতার সরকার দিচ্ছে, মোদি সরকার লুট করছে: অভিষেক
  • ২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার দিচ্ছে। অন্যদিকে, নরেন্দ্র মোদির সরকার লুট করছে। উত্তরবঙ্গে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে নির্বাচনি প্রচারে এসে এভাবেই কেন্দ্রকে বিঁধলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শীতলকুচি থেকে রাজগঞ্জ কিংবা ফালাকাটা, বুধবার প্রতিটি জনসভাতেই বিজেপির বিরুদ্ধে সুর সপ্তমে চড়ান তৃণমূল সেনাপতি। তাঁর তোপ, রান্নার গ্যাস হোক আর নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, সবেরই দাম ঊর্ধ্বমুখী। চাল-ডাল, ডিম-দুধ, শাক-সবজি, সরষের তেল, কেরোসিনের দাম কী ছিল, আর এখন কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে! মাছ-মাংস তো ছোঁয়া যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করে ছেড়েছেন মোদি।

Advertisement

উপচে পড়া জনসভায় জনতার উদ্দেশে অভিষেকের বার্তা, একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনদরদি সরকার সামাজিক প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলার গরিব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রতিমাসে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথীর টাকা পাচ্ছেন তাঁরা। অন্যদিকে কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার চারশো টাকার রান্নার গ্যাস এক হাজার, বারোশো টাকায় বিক্রি করে সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করছে। জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে আপনাদের পকেট কাটছে। ফলে আপনারা কার সঙ্গে থাকবেন, সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে নিজেদের।
নোটবন্দি থেকে এসআইআর সবেতেই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান অভিষেক। বলেন, জনবিরোধী বিজেপি নেতাদের ওঁদের ভাষাতেই জবাব দিতে হবে। মোদি মানুষকে লাইনে দাঁড় করাতে ভালোবাসেন। তাই লাইনে দাঁড়িয়েই জবাব দিন। গত ১২ বছর ধরে মোদি সরকার যেভাবে বারবার আপনাদের লাইনে দাঁড় করিয়ে হেনস্তা করেছে, এবার আপনারা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে তার জবাব দিন। যাঁরা বাংলার মানুষকে অপমান করেছেন, বাংলায় কথা বলার জন্য ‘বাংলাদেশি’ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন ‘যাঁরা’, ভোটের মাধ্যমে তাঁদের জবাব দিতে হবে। এবারের ভোটে ছুড়ে ফেলে দিতে হবে বিজেপিকে।
অভিষেক মনে করিয়ে দেন, প্রার্থী যিনিই হোন না কেন, তৃণমূলকে ভোট দেওয়া মানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোট দেওয়া। বিজেপিকে নিশানা করে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের বার্তা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আমি আসব। আর কেন্দ্রের মোদি সরকার কী করেছে, তার রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসুক ওরা। ভোকাট্টা হয়ে যাবে। ৫ এপ্রিল কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভা। সেই প্রসঙ্গ টেনে শীতলকুচির জনসভা থেকে অভিষেকের খোলা চ্যালেঞ্জ, মোদি যদি শ্বেতপত্র প্রকাশ করে প্রমাণ করতে পারেন যে, একজনেরও অ্যাকাউন্টে দশ পয়সা দিয়েছেন, তাহলে রাজনীতি ছেড়ে দেব। তাঁর আক্রমণ, গরিব মানুষের টাকা বন্ধ করে দেড় হাজার কোটি টাকার পার্টি অফিস বানাচ্ছে বিজেপি।
একুশের নির্বাচনে ফালাকাটায় জিতলেও এবার সেখানে বিজেপি ‘কচুকাটা’ হবে বলে তোপ দাগেন অভিষেক। বলেন, ফালাকাটায় ডবল ইঞ্জিন নয়, ডাব্বা ইঞ্জিন হবে বিজেপির। পদ্মপার্টির আসল চেহারা মানুষ দেখে নিয়েছে। একুশের ভোটে যেসব জায়গায় বিজেপি প্রার্থীরা জিতেছিলেন, গত পাঁচবছরে তাঁদের টিকি দেখা যায়নি। সকাল থেকে দুর্যোগের ঘনঘটা উপেক্ষা করে ফালাকাটায় জনজোয়ার ছিল তৃণমূল সেনাপতির জনসভায়। একই ছবি ধরা পড়েছে রাজগঞ্জের আমবাড়ি সুদামগঞ্জের মাঠে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ