নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: মিয়াজাকির দেশ জাপানে এবার পাড়ি দিতে পারে মালদহের ফজলি, লক্ষ্মণভোগসহ সুস্বাদু বিভিন্ন প্রজাতির আম। দেশের বাইরে গত বছরের তুলনায় এবছর দ্বিগুণ পরিমাণ আম রপ্তানির চিন্তাভাবনা শুরু করেছে অ্যাপেডার (এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড প্রসেসড ফুড প্রোডাক্টস এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি)।
মালদহ জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের উপ অধিকর্তা সামন্ত লায়েক বলেন, বিদেশের বাজারে বিভিন্ন দেশের নানা রকমের প্যারামিটার আছে। আম চাষিদের সেই সম্পর্কিত ধারণা প্রদান করা হয়েছে। যাতে মালদহের আম জাপান সহ বিশ্ববাজারে রপ্তানি করা যায়।
অ্যাপেডার তরফে শুক্রবার মালদহের একটি হোটেলে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় রপ্তানিযোগ্য আমের পদ্ধতিগত চাষের কর্মশালা আয়োজিত হয়। মালদহের প্রায় ১৫০ জন আম চাষি এই কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। জেলায় গত বছরের তুলনায় এবছর দেড় লক্ষ মেট্রিক টন আম বেশি উৎপাদন হতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনের তরফে বিদেশে আম পাঠানোর চিন্তাভাবনা শুরু করা হয়েছে। অ্যাপেডার সহকারী প্রবন্ধক সঞ্জীব সাহা বলেন, গত বছর মালদহ থেকে ১০ থেকে ১২ মেট্রিক টন আম রপ্তানি করা হয়েছে। এবছর তার দ্বিগুণ পরিমাণ আম রপ্তানি করার চিন্তাভাবনা চলছে।
মালদহ মার্চেন্টস চেম্বার অফ কমার্সের সহ সভাপতি কমলেশ বিহানী বলেন, প্রযুক্তির দেশ জাপানে মালদহের আম রপ্তানি করতে পারাটা আমাদের কাছে অন্তত গর্বের বিষয়। পাশাপাশি ইউরোপ এবং আমেরিকায় আমাদের পরিচিতদের ইতিমধ্যেই আমরা মালদহের আম সম্পর্কে আগ্রহ বৃদ্ধির প্রয়াস শুরু করেছি। উদ্যানপালন দপ্তরের উপ অধিকর্তা আরও বলেন, ইউরোপ, জাপান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ব্রিটেন সহ বিশ্বের নানা প্রান্তে রপ্তানিযোগ্য আমের ভিন্ন ভিন্ন মানদন্ড আছে। এদিনের কর্মশালায় সেই সমস্ত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। উদ্যানপালন দপ্তর, অ্যাপেডা, নাবার্ড, সিআইএসএইচ, কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র প্লান্ট কোয়ারিন্টাইনের বিশেষজ্ঞরা জানান, কম পরিমাণ কীটনাশক ও সার প্রয়োগ করে উন্নতমানের আম উৎপাদনে প্রথমে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদহের বহু প্রজাতির আমের মধ্যে হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি, লক্ষ্মণভোগ, আম্রপালি, মল্লিকা হল বাণিজ্যিক প্রজাতি। যা কোনও অংশেই আলফান্সোর থেকে কম নয়। কাজেই মালদহের আম বিদেশে পাঠানোর জন্য প্রত্যেকটি দেশ এবং মহাদেশের চাহিদা মেনে এখন থেকেই আম চাষ করতে হবে। তার জন্য চাষিদের প্রযুক্তিগত সমস্ত সহযোগিতা উদ্যানপালন দপ্তর, কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র সিআইএসএইচের তরফে করা হবে।
মালদহে এবছর ৩১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হচ্ছে। এরমধ্যে গোপালভোগ, লক্ষ্মণভোগ, হিমসাগর, ফজলি সহ বিভিন্ন প্রজাতির আম রয়েছে। জানা গিয়েছে, এবছর ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ৯০ হাজার বাগান মালিক আম চাষ করছেন। প্রায় ৩ লক্ষ ৩০ হাজার শ্রমিক এবছর আম চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।