Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

টর ব্রাউজার থেকে মেল, হচ্ছে না ট্র্যাক, ২৫ কোটি টাকা তোলা চেয়ে ব্যবসায়ীকে হুমকি

‘ওনিয়ন লেয়ারস’! পেঁয়াজের খোসার মতো পরপর একাধিক স্তর। তার ভিতর দিয়ে যাচ্ছে এনক্রিপ্টেড ফাইল। তাই প্রেরক বা ব্যবহারকারীকে চিহ্নিত করা খুবই কঠিন।

টর ব্রাউজার থেকে মেল, হচ্ছে না ট্র্যাক, ২৫ কোটি টাকা তোলা চেয়ে ব্যবসায়ীকে হুমকি
  • ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ‘ওনিয়ন লেয়ারস’! পেঁয়াজের খোসার মতো পরপর একাধিক স্তর। তার ভিতর দিয়ে যাচ্ছে এনক্রিপ্টেড ফাইল। তাই প্রেরক বা ব্যবহারকারীকে চিহ্নিত করা খুবই কঠিন। প্রতারণার কাজে এখন এই ‘টর ব্রাউজার’কেই ব্যবহার করছে হ্যাকাররা। সম্প্রতি ২৫ কোটি টাকা তোলা চেয়ে বিধাননগরে এক ব্যবসায়ীকে হুমকি মেল পাঠিয়েছে প্রতারকরা। টাকা না পেলে টরের মাধ্যমে ব্যবসায়ীর পরিবারের ছবি বিকৃত করে ভাইরাল করারও হুমকি দেওয়া হয়েছে। পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন ব্যবসায়ী। কিন্তু টর ব্রাউজারের মেল ট্র্যাক করতে গিয়ে নাকাল হচ্ছে পুলিশ। আইপি অ্যাড্রেসই পাওয়া যাচ্ছে না! প্রতারকরা দেশ নাকি বিদেশ থেকে ওই মেল পাঠাচ্ছে, তারও কিনারা করা যায়নি।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতে টর ব্রাউজার ব্যবহারে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু, টর ব্যবহার করে বেআইনি কাজকর্ম করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এই ব্রাউজার সমস্ত ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখে। ফলে, ব্যবহারকারীকে চিহ্নিত করা যায় না। ট্র্যাকিং করাও মুশকিল। সরাসরি ডিভাইস থেকে তথ্য যায় না। অনেকগুলি ভলেন্টারি রিলে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান হয়। পেঁয়াজের খোসার মতো প্রতিটি স্তরে এনক্রিপশন ব্যবহার হয়। তা ডিক্রিপ্ট করার পর, পরের তথ্য সামনে আসে। এই ধরনের ব্রাউজার দিয়ে ডার্কওয়েবের একটি অংশেও ঢোকা যায়। হ্যাকার ও সাইবার প্রতারকরাও এখন এই ধরনের ব্রাউজার ব্যবহার করতে শুরু করেছে। যাতে অপরাধ করলেও, সহজে চিহ্নিত করা না হয়। ফলে, ধরা পড়ার সম্ভাবনা কম থাকে। সাধারণভাবে মোবাইল, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার থেকে যে কোনও ধরনের অনলাইন কার্যকলাপ করলে আইপি অ্যাড্রেস থেকে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা যায়। কিন্তু, এ ক্ষেত্রে আইপি অ্যাড্রেসই গোপন রাখা হয়। ফলে, হ্যাকার পাশের বাড়ির লোক হলেও, টের পাওয়া মুশকিল!
গত ডিসেম্বরেই হ্যাকারদের কাছ থেকে ওই ব্যবসায়ী ২৫ কোটি টাকা ‘তোলা’র মেল পান। এ কাজে  টর ব্রাউজার তথা টর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হচ্ছে, তাই চিহ্নিত করা যাবে না বলেও ওই ব্যবসায়ীকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে হ্যাকাররা। ওই ব্যবসায়ী বিধাননগর কমিশনারেটে যে অভিযোগপত্র জমা করেছেন, সেখানেও টর ব্রাউজারের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রতারকরা তাঁর কাছে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে ২৫ কোটি চেয়েছে। টাকা জমা করার জন্য ই-মেলেই তারা একটি ওয়ালেট অ্যাকাউন্ট পাঠিয়েছে। যদিও ওই ব্যবসায়ী কোনও টাকা দেননি। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের কথায়, টর ব্রাউজারে ব্যবহার করে নিজেকে আড়াল করা গেলেও, অনেক সময় অভিযুক্তকে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে কিছু সূত্রও থাকে। সেই ক্লু খুঁজেই চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়। তবে, কিছুটা সময় লাগে। দ্বিতীয়ত, তোলা চেয়ে কোনও হুমকি ই-মেল পেলে সচেতন হতে হবে। কোনওভাবেই টাকা পাঠানো চলবে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ