


লখনউ: সুযোগ পেলে বাবার দেহ একাই পুড়িয়ে ফেলতে চেয়েছিল লখনউয়ের নীল ড্রাম কাণ্ডে অভিযুক্ত অক্ষয়প্রতাপ সিং। কিন্তু পরে সে দেহটি টুকরো করে কাটার পরিকল্পনা করে। পুলিশের জেরায় এমনই জানিয়েছে অক্ষয়। অভিযুক্ত জানিয়েছে, ২০ তারিখ ভোরে বাবা মানবেন্দ্র সিংকে গুলি করে খুন করে। এরপর দেহটি টেনে সে তিনতলা থেকে একতলার একটি ঘরে নিয়ে আসে। সেখানেই মানবেন্দ্রর দু’হাত, হাঁটু থেকে পা এবং মাথা কেটে ফেলে। দেহের টুকরোগুলি ফেলে আসে লখনউ শহরের বাইরে। বাকি ধড়টিকে নীল ড্রামে পুরে ফেলে আসার ছক ছিল অক্ষয়ের। কিন্তু সেই সময় কেউ তার গাড়িতে টোকা দিয়েছিল। তাই ভয় পেয়ে তড়িঘড়ি অক্ষয় ধড়ের অংশ ড্রামের মধ্যে রেখেই চলে আসে। পুলিশ যাতে তার গতিবিধি ‘ট্র্যাক’ করতে না পারে, তার জন্য বারবার মোবাইল ফোন সুইচ অন-অফ করেছিল সে। ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও ডিঅ্যাক্টিভেট করে দেয়। এরপর পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে বাবার নামে নিখোঁজ ডায়েরি করে সে। এমনকি বাবার ‘সন্ধান’ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে বন্ধুদের নিয়ে গ্রুপও তৈরি করেছিল।
তবে শুধুমাত্র রাগের মাথায় অক্ষয় বাবাকে খুন করেছে, একথা মানতে রাজি নয় পুলিশ। কারণ, ঘটনার বেশ কয়েকদিন আগেই সে অনলাইনে একটি ছুরি কিনেছিল। এছাড়া দেহ টুকরো করার পর দুর্গন্ধ এড়াতে রুম ফ্রেশনারও ব্যবহার করে। তদন্তে উঠে এসেছে, খুনের কয়েকদিন আগে বাড়ি থেকে নগদ, গয়না চুরি করেছিল অক্ষয়। সেই টাকা দিয়ে সে বান্ধবীর জন্য দামি উপহার কেনে। এছাড়া বিরাট অঙ্কের টাকা এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করেছিল অক্ষয়। ওই ব্যক্তির পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। সিং পরিবারের এক প্রতিবেশী জানিয়েছেন, অক্ষয় মাদকাসক্ত ছিল। তা নিয়ে মানবেন্দ্র অশান্তিতে ভুগতেন।