Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

৩ দশক পর উলার হ্রদে পাপড়ি মেলল পদ্ম

১৯৯২ সাল। তারপর কেটে গিয়েছে তিন দশকেরও বেশি সময়। দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে পদ্মের দেখা মিলল জম্মু-কাশ্মীরের বান্দিপোরার উলার হ্রদে।

৩ দশক পর উলার হ্রদে পাপড়ি মেলল পদ্ম
  • ৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ফিরদৌস হাসান,  শ্রীনগর: ১৯৯২ সাল। তারপর কেটে গিয়েছে তিন দশকেরও বেশি সময়। দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে পদ্মের দেখা মিলল জম্মু-কাশ্মীরের বান্দিপোরার উলার হ্রদে। এর মাঝে বন্যার জেরে নিজের সৌন্দর্য ও জলজ গাছের সম্ভার হারায় ভারতের সবচেয়ে বড় মিষ্টি জলের এই হ্রদ। বিগত ৩২ বছর ধরে দেখা মেলেনি পদ্ম ফুলের। এবছর পদ্ম ফিরতেই উলার হ্রদে যেন শুরু হয়েছে উৎসবের মরশুম। ভিড় জমিয়েছেন স্থানীয় মানুষজন ও পর্যটকরা। বোট রাইড ও ছবি তোলার হিড়িক পড়ে গিয়েছে সেখানে। 

Advertisement

এতবছর পর পদ্মের প্রত‌্যাবর্তনে স্থানীয় মৎস্যজীবী বসির আহমেদ দারের চোখে-মুখে তৃপ্তির ছাপ। তাঁর কথায়, জীবনে ফের এই দৃশ্যের সাক্ষী হব, তা ভাবতে পারিনি। তখন খুব ছোট। বাবার সঙ্গে নাদ্রু তুলতে যেতাম। এত বছর পেরিয়ে উলার যেন ফের জীবন্ত হয়ে উঠল। উল্লেখ্য, পদ্মের কাণ্ডটি জম্মু-কাশ্মীরে নাদ্রু হিসেবে পরিচিত। ফুল, কাণ্ড সবকিছুই বিক্রি করে সংসার চালাতেন এখানকার স্থানীয়দের অনেকেই। 
হ্রদের সৌন্দর্য দেখতে ভিড় জমিয়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের নানা প্রান্তের মানুষজনও। মজেছেন পর্যটকরাও। দিল্লি থেকে আসা সীমা রাঠি জানান, প্রথমে গুলমার্গে দু’বার যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু উলারে পদ্মফুলের কথা জানতে পেরে তড়িঘড়ি প্ল্যান বদলাই। প্রকৃতির এই জাদু দেখতে ছুটে এসেছি।
পদ্মের আগমন বাড়াবে রুটিরুজি। এমনই আশায় বুক বেঁধেছেন বোটিংগোর বাসিন্দা সুহেল আহমেদ। তাঁর কথায়, মূলত পানি ফল ও মাছের চাষ করে আমাদের সংসার চলে। এবার পদ্ম হয়েছে। উপত্যকার পাশাপাশি বাইরেও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আশা করি, বছরটা বেশ ভালো যাবে।
আশার আলো দেখছেন পরিবেশবিদরা। তাঁদের কথায়, সংশ্লিষ্ট জলাভূমির বাস্তুতন্ত্রের জন্য এটি অত্যন্ত ভালো বিষয়। ইরশাদ ভাট নামে এক পরিবেশবিদ জানিয়েছেন, ‘হ্রদটি সংরক্ষণের জন্য ইতিমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ করেছে সরকার। পদ্ম জন্মানোয় হ্রদটি ফের পুনরুজ্জীবিত হয়ে উঠছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ