সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতিশ্রুতি ছিল, সবার মাথায় ছাদ। অর্থাৎ ‘হাউজিং ফর অল’। একের পর এক বছর ঘুরেছে, আর সেইসঙ্গে ধুলো জমেছে প্রতিশ্রুতির ফাইলে। ২০১৬ সালে প্রকল্প ঘোষণার সময় ঘোষণা ছিল, গোটা দেশে ২ কোটি ৯৫ লক্ষ বাড়ি তৈরি হবে। সেই টার্গেট পূরণ তো দূরঅস্ত, নথিভুক্ত লক্ষ লক্ষ উপভোক্তা এখনও মোদি সরকারের অনুমোদনই পাননি। তারই মধ্যে নতুন সিদ্ধান্ত, গ্রামে আরও ২ কোটি নতুন বাড়ি। সার্বিক টার্গেট ৪ কোটি ৯৫ লক্ষ বাড়ি। সঙ্গে নতুন চমক—আসছে আবাস অ্যাপ। পোশাকি নাম, AWAAS PLUS 2024। আগে পরিবারের মাসিক উপার্জন ১০ হাজার টাকার কম হলে আবেদন করা যেত। এখন তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। কেন্দ্রের দাবি, যার বাড়ি চাই, সেই পরিবারের যে কেউ অ্যাপের মাধ্যমে নিজেই সমীক্ষা (সেলফ সার্ভে) করতে পারবেন। আধার নম্বর ও ছবি দিয়ে অ্যাপে ফর্ম ভরবেন এবং আবেদন করবেন। গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান জানিয়েছেন, ‘অ্যাপের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তি নিজে আবেদন করলে আর কারও অভিযোগ থাকবে না যে, বাড়ি পাইনি। সরকার স্রেফ যাচাই করবে।’
Advertisement
গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের তথ্যই বলছে, গোটা দেশে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণে আবেদন জমা পড়েছে ৩ কোটি ৬৬ লক্ষ ৫৫ হাজার ২৮৮টি। তার মধ্যে অনুমোদন পেয়েছে ৩ কোটি ২২ লক্ষ ৮৯ হাজার ৬৪৪। অর্থাৎ এখনও অনুমোদনের অপেক্ষাতেই ঝুলে ৪৩ লক্ষ ৬৫ হাজার ৬৪৪টি আবেদন। সম্পূর্ণ হয়েছে ২ কোটি ৬৮ লক্ষ ৭৫ হাজার ৪৫৯টি বাড়ি। সেক্ষেত্রে আবেদনের নিরিখে গত আট বছরে ৯৭ লক্ষ ৭৯ হাজার ৮২৯টি বাড়ি তৈরিই হয়নি। প্রশ্ন হল, যেখানে প্রায় এক কোটি আবাস এখনও তৈরি হয়নি, অনুমোদন পায়নি ৪৪ লক্ষ... সেখানে ২০২৮-২৯ অর্থবর্ষের মধ্যে নতুন ২ কোটি আবাসের প্রচার কেন? আর অ্যাপই বা কেন? দেশের সিংহভাগ গ্রামে এখনও ভালোমতো ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছয়নি। কোটি কোটি মানুষ স্মার্টফোনই ব্যবহার করেন না। এবং যে পরিবারের আয় ১৫ হাজার টাকার কম, তাদের কাছে স্মার্টফোন থাকাটা বিলাসিতা নয় কি? তাহলে আবাসের আবেদনে অ্যাপ কেন? বিরোধীরা একে গিমিক ছাড়া আর কিছুই বলছে না। তাদের সাফ কথা, ২০২৯ সালের ভোটপ্রচারের জন্য আগাম ঘুঁটি সাজিয়ে রাখছেন মোদি। একদিকে এই প্রচার, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গকে লাগাতার বঞ্চনা। ক্ষোভের আঁচ কিন্তু বাড়ছে। গ্রামীণ আবাসে ৩৪ লক্ষের চূড়ান্ত তালিকার মধ্যে ১১ লক্ষকে অনুমোদন দিলেও কেন্দ্রের একটা টাকাও বঙ্গবাসী পায়নি। অথচ, কেন্দ্রীয় পোর্টালে দাবি করা হচ্ছে, বাংলায় আবেদনের সংখ্যা ৪৯ লক্ষ ৫৬ হাজার ৮৪৫। আর অনুমোদিত ৪৫ লক্ষ ৬৯ হাজার ৩২। গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক সংক্রান্ত পরামর্শদাতা কমিটির অন্যতম সদস্য তৃণমূলের এমপি কাকলি ঘোষদস্তিদার একে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যে’ বলে তোপ দেগেছেন। মন্ত্রী বৈঠক ডাকলেই সরব হওয়ার জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।



