সংবাদদাতা, বর্ধমান: পথ দুর্ঘটনায় ব্যবসায়ীর মৃত্যুতে মৃতের পরিবারকে ৯৬ লক্ষাধিক টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার জন্য বিমা সংস্থাকে নির্দেশ দিল বর্ধমানের মোটর দুর্ঘটনা সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনাল। রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে টাকা মেটাতে বলা হয়েছে। তার মধ্যে মৃতের স্ত্রী পাবেন পাঁচ লক্ষ টাকা। মৃতের মা ও মেয়ে পাবেন ৪৫ লক্ষ ৭৪ হাজার ৪২৮ টাকা করে। তিনটি চেকে মোট ৯৬ লক্ষ ৪৮ হাজার ৮৫৬ টাকা বার্ষিক ৭ শতাংশ হারে সুদ সহ মেটাতে বলা হয়েছে। মামলা করা থেকে টাকা মেটানো পর্যন্ত সরল হারে সুদ গুনতে হবে বিমা সংস্থাকে। বৃহস্পতিবার বর্ধমানের তৃতীয় ট্রাইব্যুনালের বিচারক মনোজকুমার রাই এই নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান শহরের কালনা রোড পীরপুকুরের বাসিন্দা সন্দীপ দত্ত(৪৩) ২০১৭ সালের ৮ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ শহরের টাউন হল এলাকায় তাঁর পোশাকের দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার তোড়জোড় করছিলেন। বাইকে স্ট্রার্ট দেওয়ার সময় কার্জন গেটের দিক থেকে বীরহাটার দিকে যাওয়া একটি গাড়ি তাঁকে ধাক্কা মারে। স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার করে তাঁকে শক্তিগড় থানার বামবটতলা এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার বিষয়ে মৃতের দাদা সঞ্জয় দত্ত থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাতে তিনি বেপরোয়া গাড়ি চালানোর জন্য তাঁর ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বর্ধমান থানার পুলিস প্রিয়ম সামন্ত নামে এক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করে। পরের দিন আদালতে পেশ করা হলে জামিনযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হওয়ায় ধৃত জামিন পেয়ে যায়। পুলিস সেই মামলায় জামিন অযোগ্য ধারায় আদালতে চার্জশিট পেশ করেছে। ক্ষতিপূরণ পেতে মৃতের স্ত্রী পারমিতা দত্ত ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। ঘটনার সময় মৃতের বাৎসরিক আয় ছিল ১৩ লক্ষাধিক টাকা। মৃতের স্ত্রী ১ কোটি ১ লক্ষ ৬০ হাজার ৫২০ টাকা ৯ শতাংশ সুদ সহ দেওয়ার জন্য আবেদন জানান। বিমা সংস্থার তরফে অবশ্য বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে আবেদনের বিরোধিতা করা হয়। আদালতে যে ধারায় চার্জশিট পেশ করা হয়েছে তার উল্লেখও করেন বিমা সংস্থার আইনজীবীরা।



