নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভিড় বাসে উঠেছিল ভিন রাজ্যের চার কেপমার। তারা বাসে উঠেই এক ব্যবসায়ীকে টার্গেট করে। বাসে তখন প্রচণ্ড ভিড়। তার উপর চলছে ঢিমেতালে। ওই চারজন ব্যস্ত নিজেদের মধ্যে কথাবার্তায়। কথায় কথায় ওই ব্যবসায়ীও ঢুকে পড়েন আলোচনায়। একজন কথার মারপ্যাঁচে তাঁকে ব্যস্ত রাখেন। এই সুযোগে বাকিরা তাঁর ব্যাগের চেন খুলে হাতিয়ে নেয় ১৭ লক্ষ টাকা। এরপর তারা এক এক করে নেমে যায় বাস থেকে। কিছুক্ষণ বাদে ওই ব্যবসায়ী খেয়াল করেন, ব্যাগের চেন খোলা। টাকা উধাও। তিনি বুঝতে পারেন, কেপমারের পাল্লায় পড়ে টাকা খুইয়েছেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে বাস থেকে নেমে অভিযোগ করেন বড়বাজার থানায়।
Advertisement
তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, কাটোয়ার বাসিন্দা ওই বস্ত্র ব্যবসায়ী কলকাতায় এসেছিলেন জামাকাপড় কিনতে। বড়বাজারে পাইকারি দোকানে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। হাওড়া স্টেশনে নেমে তাই বসে উঠেছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিল টাকার ব্যাগ। বাসটি ফ্লাইওভার পেরিয়ে ব্র্যাবোর্ন রোডে আসার পরই টাকা লোপাট হয়ে গিয়েছে। ওই এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা হয়। তাতে তিনজনের ছবি ধরা পড়ে। তা দেখে তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন, এরা ভিন রাজ্যের কেপমার। কারণ পুলিসের কাছে স্থানীয় কেপমারদের যে রেকর্ড রয়েছে, সেই ছবির সঙ্গে মিল নেই ওই তিনজনের। এর মধ্যেই অফিসারদের কাছে খবর আসে, দেওঘরে তিনজন কেপমার ধরা পড়েছে। তারা দেওঘর জেলে এখন বন্দি। এই তিনজন কলকাতা সহ বিভিন্ন রাজ্যে গিয়ে কেপমারি করেছে। তাদের সম্পর্কে খোঁজ করতে গিয়ে জানা যায়, বড়বাজার এলাকাতেও তারা এসে একই কাজ করেছে। কয়েকমাস কলকাতায় কাটিয়ে তারা অন্য রাজ্যে চলে যায়। যাতে পুলিস তাদের নাগাল না পায়, তারজন্য তারা বারবার ডেরা পাল্টায়। এরপর জেলবন্দি এই তিন অভিযুক্তকে হেফাজতে পেতে ঝাড়খণ্ডের জেলে আবেদন করে কলকাতা পুলিস। সেই অনুমতি মেলায় রবিবার তিনজনকে নিয়ে আসা হয় কলকাতায়। এই শহরে তারা কোথায় কোথায় অপরাধ করেছে, ধৃতদের জেরা করে তা জানতে চান তদন্তকারীরা।



