Bartaman Logo
২৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জয়ের আগে শেষ প্রহর, সতর্ক থাকুন, দলীয় কর্মীদের বার্তা মমতা-অভিষেকের, রাত ২টো বাজলেও ধৈর্য ধরার নির্দেশ

‘জিতছি আমরা, জিতব আমরা! কাউন্টিং-হলে খেলা হবে।’ গণনা শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে বাংলার অগ্নিকন্যার দৃপ্ত কণ্ঠে প্রত্যয়ী সুর। এক্সিট পোলকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না তিনি

জয়ের আগে শেষ প্রহর, সতর্ক থাকুন, দলীয় কর্মীদের বার্তা মমতা-অভিষেকের, রাত ২টো বাজলেও ধৈর্য ধরার নির্দেশ
  • ৩ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘জিতছি আমরা, জিতব আমরা! কাউন্টিং-হলে খেলা হবে।’ গণনা শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে বাংলার অগ্নিকন্যার দৃপ্ত কণ্ঠে প্রত্যয়ী সুর। এক্সিট পোলকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না তিনি। দু’দফায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর আসনভিত্তিক সমীক্ষা রিপোর্ট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে এসেছে। তার ভিত্তিতেই এবার তৃণমূল সুপ্রিমোর জোরালো দাবি, ‘২০০ আসন পার করে আমরা এগিয়ে যাব। বিজেপি হারছে, এটা ওরাও জানে।’ সেই কারণে গেরুয়া শিবির নানাভাবে চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করতে পারে বলেও আশঙ্কা নেত্রীর। এই অবস্থায় তৃণমূলের প্রার্থী এবং কাউন্টিং এজেন্টদের প্রতি মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফ নির্দেশ— ‘সতর্ক থাকুন! শেষ রাউন্ডের গণনা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কেউ গণনাকেন্দ্র ছেড়ে যাবেন না। তাতে রাত দুটো বাজলেও ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করবেন। আমাদের জয় হবেই।’ গণনার দিন কালীঘাট এবং ক্যামাক স্ট্রিট অফিস থেকে সব কিছু মনিটরিং করা হবে। জেলায় জেলায় থাকবে ওয়ার রুম। এছাড়াও তৃণমূলের রাজ্যস্তর থেকে জেলায় জেলায় যাচ্ছেন দলীয় পর্যবেক্ষক। যেমন, দমদম-বারাকপুরের সাংগঠনিক জেলায় পাঠানো হচ্ছে রাজ্যসভার সাংসদ তথা প্রাক্তন পুলিশকর্তা রাজীব কুমারকে।

Advertisement

আগামী কাল, সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা। তার আগে শনিবার বিকেলে তৃণমূলের প্রার্থী, কাউন্টিং এজেন্ট এবং দলীয় পদাধিকারীদের সঙ্গে ‘ভার্চুয়াল’ মাধ্যমে বৈঠক করেন মমতা। অংশ নেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেকও। গণনার দিন কর্মীদের কী কী করণীয়, সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট বার্তা এদিন দিয়েছেন তাঁরা। কী সেই বার্তা? মমতা বলেছেন, ‘ভোর পাঁচটা- সাড়ে পাঁচটার মধ্যে গণনাকেন্দ্রে কাউন্টিং এজেন্টরা পৌঁছে যাবেন। বাইরে থেকে কেউ জল, খাবার দিলে সেগুলি নেবেন না। বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হলে দলের অন্য কোনো লোককে দায়িত্ব দিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে ফেরত চলে আসবেন। ধীরগতিতে গণনা চালানোর একটা পরিকল্পনা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে। তাই রাত দুটো বাজলেও কেউ কাউন্টিং সেন্টার ছেড়ে যাবেন না।’ অভিষেক বলেছেন, ‘গণনাকেন্দ্রের বাইরে ছাত্র-যুব ও মহিলা এবং শ্রমিক শাখা মিলিয়ে চার-পাঁচ হাজার কর্মী জমায়েত হবেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী অত্যাচার করছে, এজেন্টদের বসতে দিচ্ছে না... এমন কিছু ঘটলেই সঙ্গে সঙ্গে তা দলকে জানাবেন।’ মহিলাদের রাস্তায় নামার জন্য প্রস্তুত থাকারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্ট্রংরুম থেকে গণনাকেন্দ্রে ইভিএম নিয়ে যাওয়ার সময় নজরদারি রাখার কথাও এদিন বলেছেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘গণনাকেন্দ্রে যদি ১০ সেকেন্ডের জন্য লোডশেডিং হয়, তাহলে ওরা ৫০টা মেশিন পাল্টে দিতে পারে। তাই  কড়া নজর রাখতে হবে। আর গণনার পর প্রাপ্ত ভোটের যে তথ্য আসছে, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর তা কম্পিউটারে নথিভুক্ত করার সময় যেন তথ্যের ফারাক না হয়। সেদিকেও লক্ষ্য রাখবেন।’ এর আগে অন্য রাজ্যের ভোটে ইভিএমে গোলযোগ সংক্রান্ত অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি বিরোধী দলগুলি। সেই প্রেক্ষিতেই এদিন অভিষেক উল্লেখ করেছেন, কোনো ইভিএমে যদি দেখেন ৭০ শতাংশের বেশি ব্যাটারি চার্জ রয়েছে, তাহলে ধরতে হবে ওই মেশিনটি নতুন। তাহলে ভিভিপ্যাট গণনার দাবি জানাতে হবে তৃণমূল এজেন্টদের।
মমতাও বলেছেন, ‘মেশিনে যদি কোনো সন্দেহ দেখা দেয় তখনই ভিভিপ্যাট কাউন্টিংয়ের দাবি জানাতে হবে। কোথাও যদি ৩০০ বা ৫০০ ভোটে জয়ের ব্যবধান দেখা যাচ্ছে বা বিজেপিকে জিতিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সেখানে পুনরায় গণনার দাবি জানাতে হবে।’ বৈঠকে আরও দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন মমতা। তা হল— তৃণমূল কর্মী এবং বাংলার মানুষের উপর যাঁরা অত্যাচার করেছে, ভোটে জেতার পর তাঁদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কঠিন এই ভোটযুদ্ধে দলের যে সমস্ত কর্মীরা মার খেয়েও ময়দান ছাড়েননি, তাঁরা পাবেন পুরস্কার!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ