Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

সীমান্তে পরপর সুড়ঙ্গ লস্করের! ভারতে হামলা চালানোর নয়া প্ল্যান পাক জঙ্গিদের, তৎপর সেনা

যুদ্ধবিরতি হয়েছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছেন, ‘আর একটিও সন্ত্রাসের হামলা হলে ভারত আবার অপারেশন সিন্দুরের মতোই প্রত্যাঘাত করবে।’

সীমান্তে পরপর সুড়ঙ্গ লস্করের! ভারতে হামলা চালানোর নয়া প্ল্যান পাক জঙ্গিদের, তৎপর সেনা
  • ২০ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: যুদ্ধবিরতি হয়েছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছেন, ‘আর একটিও সন্ত্রাসের হামলা হলে ভারত আবার অপারেশন সিন্দুরের মতোই প্রত্যাঘাত করবে।’ পাকিস্তান সরকার এই হুঁশিয়ারিকে কী চোখে দেখছে, সেটা তাদের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপেই স্পষ্ট হবে। কিন্তু পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই-তোইবা? ভারত বিরোধী চক্রান্তে তাদের কোনও বিরাম নেই। উল্টে অপারেশন সিন্দুরে সন্ত্রাসবাদীদের একের পর এক ডেরায় ভারতীয় সেনা আক্রমণ করে যে শতাধিক জঙ্গিকে খতম করে দিয়েছে, তার প্রতিশোধের প্ল্যান সাজিয়েছে লস্কর। ভারতীয় গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, অপারেশন সিন্দুরের পর‌ই পাক অধিকৃত কাশ্মীরে লস্করের কমান্ডার স্তরের একটি বৈঠক হয়েছে। পেশোয়ার থেকে মুলতান। লাহোর অথবা করাচি। প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা লস্কর কমান্ডাররা এই বৈঠকে যোগ দিয়েছিল। নেতৃত্বে ছিল আবু আমির হামজা এবং মহম্মদ শোয়েব। বৈঠকে স্থির হয়েছে, নিয়ন্ত্রণ রেখা ধরে সীমান্ত বরাবর বিস্তীর্ণ অংশে সুড়ঙ্গ তৈরি হবে। সেই পথেই ভারতে পাঠানো হবে ফিদায়েঁ জঙ্গিদের। একসঙ্গে বিভিন্ন এলওসি পয়েন্ট টার্গেট করছে লস্কর। বেশ কিছু স্থানে এই সুড়ঙ্গ খননের কাজ শুরুও হয়ে গিয়েছে। এই ব্লু-প্রিন্ট কেন? অধিকৃত কাশ্মীরের নীচ দিয়ে সুড়ঙ্গপথে জঙ্গিরা অনুপ্রবেশ করলে নিয়ন্ত্রণ রেখায় প্রহরারত ভারতীয় সেনা এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরে আসবে না। এখানেই শেষ নয়। চক্রান্ত আরও বড়। একসঙ্গে বেশ কয়েকটি জঙ্গিদল পার করিয়ে নাশকতা শুরু করানোর পর ওই একই পথে পাকিস্তানি সেনাও ঢুকবে। যাতে জঙ্গিদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাক সেনাও লড়তে পারে।

Advertisement

এই প্রক্রিয়া কিন্তু সংঘাতের সময়ই শুরু হয়েছে। পহেলগাঁওয়ে হামলার আগে থেকেই মাঝেমধ্যে পাকিস্তানি সেনার সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি চলছিল। দু’পক্ষের যুদ্ধ পরিস্থিতির আড়ালেও লাগাতার সুড়ঙ্গ খনন চলেছে। লক্ষ্য ছিল, ভারতীয় বাহিনী গুলিযুদ্ধে ব্যস্ত থাকাকালীন সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। গোয়েন্দা সূত্রে এই খবর পাওয়ার পরই নিয়ন্ত্রণ রেখায় সতর্কতা দ্বিগুণ করেছে ভারত।
প্রশ্ন হল, পাকিস্তান কি তাহলে ভারতের হুঁশিয়ারিতে গুরুত্ব দিচ্ছে না? তাহলে লস্করের মতো জঙ্গিগোষ্ঠী এখনও বহাল তবিয়তে ভারত বিরোধী প্ল্যান চালিয়ে যাচ্ছে কীভাবে? রবিবার পাকিস্তানে অজানা আততায়ীর গুলিতে আবু সইফুল্লা নিজমানি খুন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এই মোস্ট ওয়ান্টেড লস্কর জঙ্গি বুক চিতিয়ে ঘুরে বেড়ানোর নেপথ্যে কি সরকারি মদত নেই? ভারতে ‘সফল মিশনে’র জন্য তাকে গাজি আবু সাইফুল্লা উপাধিও দেওয়া হয়! তাহলে কি পাকিস্তান সত্যিই সন্ত্রাস বিরোধী পদক্ষেপ নিচ্ছে?
রাজনাথ সিং বলেছেন, ‘পিকচার অভি বাকি হ্যায়।’ সইফুল্লাকে কিন্তু মাতিল জনপদে তার বাড়ির কাছেই হত্যা করা হয়েছে। রহস্য হল, লস্করের সেকেন্ড ইন কমান্ডের আততায়ী কে?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ