


সংবাদদাতা, লালবাগ: ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের লালগোলার এক পরিবার। লালগোলা থানার কালমেঘা পঞ্চায়েতের ভবানীপুর ঘোলদহের ওই পরিবারের ফারুক আবদুল্লা ইজরায়েলের হাইফা শহরের ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে কর্মরত। বর্তমানে ইজরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় আছড়ে পড়ছে ইরানের মিসাইল। এমন পরিস্থিতিতে ফারুকের পরিবার প্রচণ্ড উদ্বিগ্ন।
লালগোলার মেধাবী ফারুক প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিজিক্সে পিএইচডি করেছেন। বছরখানেক আগেই তিনি হাইফায় ইজরায়েল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে টেকনিশিয়ানের কাজ পেয়ে সেদেশে পাড়ি দেন। সেখানে ঘনীভূত পদার্থের টপোলজিক্যাল বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণাও করেছেন। লালগোলার ভবানীপুরে তাঁর বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা এবং আত্মীয়রা রয়েছেন। প্রায় ছ’মাস আগে ফারুক ঘরে ফিরেছিলেন। পরিবারের সঙ্গে কিছুদিন সময় কাটিয়ে তিনমাস আগে কর্মস্থলে ফিরে যান। তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু এখন ইজরায়েল ও ইরানের সংঘাতের আবহে সন্তানকে নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ফারুকের বাবা-মা।
ফারুকের বাবা আব্দুর রহমান বলেন, প্রতিদিন ওখানে মিসাইল হানার খবর শুনে বুক কাঁপছে। আমি চাই, ছেলেটা সুস্থভাবে ঘরে ফিরে আসুক। ফারুকের স্কুলশিক্ষক তথা লালগোলা এমএন অ্যাকাডেমির পদার্থবিদ্যার শিক্ষক জাহাঙ্গির মিয়া বলেন, আমার সঙ্গে প্রতিদিন ওর মেসেজ আদানপ্রদান হচ্ছে। শুক্রবারও হয়েছে। ফারুক ওখানে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে।
ফারুক ফোনে বলেন, আমাদের এলাকায় এখনও অবধি মিসাইল হামলা হয়নি। আমরা স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছি। তবে রাতের দিকে একটু সতর্ক থাকতে হয়। আমাদের বলা হয়েছে, সাইরেন বাজলে বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে হবে। তবে এখনও অবধি এই এলাকায় সেটা হয়নি। তবে যুদ্ধ চলতে থাকায় কিছুটা উদ্বেগে রয়েছি।