


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ‘সম্ভব হলে পুলিশ আমাকে ধরে দেখাক!’—এমনই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ছিল তার। অবশেষে দেশের ১৩টি রাজ্যের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড এক ঠগি’কে গ্রেফতার করল বিধাননগর পূর্ব থানার পুলিশ। তাকে কেরল থেকে পাকড়াও করে এখানে আনা হয়েছে। চারবছর ধরে সে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের হোটেলে উঠে অন্য অতিথিদের ওয়ালেট, ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল ও ল্যাপটপ নিয়ে চম্পট দিত। ক্রেডিট কার্ডের লেনদেনের সীমা শেষ করে মোবাইল, ল্যাপটপসহ ওই কার্ড কুরিয়ারে ফেরতও পাঠাত সে! ধরা যাতে না পড়ে তার জন্য প্রতি রাজ্যে সে পৃথক নাম, সিমকার্ড এবং আধার কার্ড (অবশ্যই নকল) ব্যবহার করত। এমনকি, এই ধরনের অপরাধ করার জন্য সে এথিক্যাল হ্যাকিংয়ের ডিপ্লোমাও করেছে!
এই ‘কুখ্যাত ঠগি’কে গ্রেফতার প্রসঙ্গে সোমবার একটি সাংবাদিক সম্মেলন ডেকেছিলেন বিধাননগর কমিশনারেটের গোয়েন্দা প্রধান সোনওয়ানে কুলদীপ সুরেশ। তিনি বলেন, ধৃতের নাম অজয় কে ওরফে কুরাপাটি অজয়। সে বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা। গত ২৯ জুলাই বিহারের এক যুবক সল্টলেকের একটি গেস্ট হাউসে উঠেছিল। সেখান থেকে তার ওয়ালেট, ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল ও ল্যাপটপ চুরি যায়। ওই গেস্ট হাউসে অজয় কে ‘সাই কৃষ্ণা’ নামে উঠেছিল। সে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ১৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে ছিল। সেই টাকায় সোনা এবং একাধিক আইফোন কিনেছিল। তার তদন্তে নেমেই আমরা এই যুবকের খোঁজ পাই। তাকে ট্র্যাক করা হচ্ছিল। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সে ৯৮টি সিমকার্ড বদল করেছে!
পুলিশ জানিয়েছে, সুদর্শন অজয় দামি পোশাক পরত। হোটেলে ঢুকেই অন্য অতিথিদের সঙ্গে আলাপ জমাত এবং সুযোগ বুঝে তাদের ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল প্রভৃতি নিয়ে পালাত। মজার ব্যাপার এই যে, অপারেশন শেষে চোরাই জিনিসগুলি আবার গ্রাহকের ঠিকানাতেই পাঠিয়ে দিত এই দুষ্কৃতী। ১৩টি রাজ্যে তার বিরুদ্ধে ১৮টি এফআইআর রয়েছে। এর আগে সে বেঙ্গালুরু ও গ্যাংটকে দুবার গ্রেফতার হয়। -নিজস্ব চিত্র