Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মহিয়ারীর কুণ্ডু চৌধুরী বাড়ি: প্রতীকী নৌকার পুজো নবমীতে

ইংল্যান্ডের চেশায়ার থেকে জাহাজে আসত লবণ। সত্যাগ্রহের আগে বিলিতি লবণের ব্যবসা করে আর্থিক প্রতিপত্তি চরমে উঠেছিল হাওড়ার আন্দুলের কুণ্ডু চৌধুরীদের।

মহিয়ারীর কুণ্ডু চৌধুরী বাড়ি: প্রতীকী নৌকার পুজো নবমীতে
  • ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুদীপ্ত কুণ্ডু, হাওড়া: ইংল্যান্ডের চেশায়ার থেকে জাহাজে আসত লবণ। সত্যাগ্রহের আগে বিলিতি লবণের ব্যবসা করে আর্থিক প্রতিপত্তি চরমে উঠেছিল হাওড়ার আন্দুলের কুণ্ডু চৌধুরীদের। সেই বৈভব থেকে এ বাড়িতে শুরু দুর্গাপুজোর। ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কুণ্ডু চৌধুরী বাড়িতে হরের পাশে গৌরী রূপে পূজিতা হয়ে আসছেন দুর্গা। পুজোয় রাখা হয় প্রতীকী নৌকা।

Advertisement

আন্দুল-আলমপুর রাজ্য সড়ক থেকে সামান্য দূরে কুণ্ডু চৌধুরীদের বিশাল জমিদারবাড়ি। জায়গাটির নাম মহিয়ারী। জমিদার বাড়িটি আগের মত আর লোকজনের ভিড়ে গমগম করে না। নিস্তব্ধ ঠাকুর দালানে শোনা যায় পায়রার ডানা ঝাপটানোর শব্দ। তবে বাড়ির প্রতিটি ইট শুধু অক্ষুণ্ণই নয়, যেন সযত্নে রক্ষিত। নাটমন্দিরে রাখা হর-গৌরীর প্রতিমা। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। জানা গিয়েছে, বংশের পূর্বপুরুষ রামকান্ত কুণ্ডু চৌধুরীর হাত ধরে এই বাড়িতে দুর্গাপুজোর প্রচলন। নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমে বাসন্তী পুজো করা হয়। তারপর আশ্বিন মাসে হর-গৌরীর পুজো। বৈষ্ণব মতে হওয়া এই পুজোয় দেবীকে ফল ভোগ, মিষ্টি নিবেদন করা হয়। আখ বলি, ধুনো পোড়ানোর নিয়ম। অষ্টমী ও নবমীতে হয় পুঁথি পুজো। পূর্বপুরুষদের আদি ব্যবসাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আজও দুর্গাপুজোয় নিয়ম করে এই বাড়িতে নবমীর দিন হয় ‘বোট পুজো’। ঠাকুরের সামনে দালানে একটি প্রতীকী নৌকা রেখে পুজো করা হয়। বাড়ির সপ্তম প্রজন্মের সদস্য অমিতাভ কুণ্ডু চৌধুরী বলেন, ‘এই বাড়ির রাস দূরদূরান্ত পর্যন্ত বিখ্যাত ছিল। পুজোর সময় গোটা মহিয়ারীতে উৎসব হতো। এখন রীতি মেনে বছরে দু’টি পুজো করা হয়।’ অমিতাভবাবুর বয়স বর্তমানে ৭৬ বছর। তাঁর কাছে জানা গেল, এই বংশের আদি ব্যবসা ছিল ধানের। এরপর লবণের ব্যবসা করে জমিদারিত্ব পেয়েছিল। ইংল্যান্ডের চেশায়ার থেকে জাহাজে করে লবণ আসত। এরপর সরস্বতী নদীতে ছোট ছোট নৌকোয় লবণ পাঠানো হতো পোস্তা বাজারে। যেত আহিরীটোলা, কালনাতেও। বর্তমানে জমিদারি না থাকলেও বাড়ির আভিজাত্য অটুট। তাই মাঝেমধ্যেই শ্যুটিংয়ের ভিড় জমে। পুজোর খরচ চালাতে কষ্ট হলেও এই বাড়িতে সিনেমা, সিরিয়ালের শ্যুটিং হতে দিতে চান না তিনি। তাঁর কথায়, পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নিয়ে সেবায়েত কমিটি রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাজার ও পোস্ট অফিস থেকে ট্রাস্টের যেটুকু আয় হয় তাতেই পুজো হয়। সিনেমার জন্য বাড়ি ভাড়া দিলে এই বাড়ির আর গৌরব অবশিষ্ট থাকবে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ