


অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায় ও সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: ময়দানের সেরা উৎসব। অনেকে বলেন, সবুজ ঘাসে আনন্দের উদযাপন। নববর্ষের প্রথম দিনে বারপুজোয় মেতে ওঠা বাঙালির অভ্যাস। একরাশ স্বপ্ন, বর্তমান ও প্রাক্তন ফুটবলারদের চোখের দেখা, পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণ, ফুল-বেলপাতায় সাজানো বারপোস্ট, সানাইয়ের সুর এবং মনভরা খাবারের টানেই ফি বছর প্রিয় ক্লাবে ছুটে আসেন সদস্য-সমর্থকরা। সূর্যের প্রখর তেজকে হেলায় হারিয়ে ‘মন্দিরে’ হাজির হতে পারলেই তাঁদের আনন্দ। আর কর্মকর্তারা? দুগ্গাপুজোর থিমের মত তাঁরাও তৈরি আনন্দ বিলিয়ে দিতে। এবারও ময়দানের এই ক্যানভাস প্রচণ্ড রঙিন।
বুধবার মোহন বাগান তাঁবু সেজে উঠেছিল একটু অন্যরকমভাবে। কুলো, পাখা, ফুটবলারদের কাট-আউট, জার্সি এবং ফুলের সম্মিলিত প্রয়াস মন ভালো করে দিতে বাধ্য। সাজানো গেটের সামনে সেলফি নেওয়ার হিড়িক। প্রাক্তন ফুটবলার প্রদীপ চৌধুরির হাত ধরে তাঁবুতে ঢুকছিল নাতি। খুদের চোখে নতুনের খোঁজ। সামান্য দূরেই ভিয়েন। ভেসে আসছে কমলাভোগ-পান্তুয়ার গন্ধ। সঙ্গে লন থেকে কানে আসে ঋষি পাণ্ডার গান। এরমধ্যেই হঠাৎ হুড়োহুড়ি পড়ে গেল। হাজির মনবীর সিং ও অধিনায়ক শুভশিস বসু। সভাপতি দেবাশিস দত্ত, সচিব সৃঞ্জয় বসু, প্রাক্তন ফুটবলার শিলটন পাল, মানস ভট্টাচার্য সহ অন্যান্যদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হল বারপুজো। নববর্ষের উন্মাদনায় গা ভাসিয়ে মনবীরের মন্তব্য, ‘এ এক আলাদা অনুভুতি।’ উল্লেখ্য, এদিন মোহন বাগান অ্যাথলেটিক ক্লাবের ক্রিকেট, অ্যাথলেটিকস ও হকি দলের নতুন জার্সি উন্মোচিত হল।
নববর্ষের ইস্ট বেঙ্গলও লাল-হলুদ সাজে সেজে ওঠে। তাঁবুতে ঢোকার আগেই নজর কেড়ে নিল ফুলের গেট। ফুল দিয়েই লেখা ‘শুভ নববর্ষ।’ ইস্ট বেঙ্গলের সমর্থক সমর পাল ভিডিও কলে তাঁর ছেলেকে তা দেখালেন। পরে বলছিলেন, ‘ছেলেকে নিয়ে আসার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষা থাকায় এবার হল না।’ ক্লাবের ভিতর পা রাখতেই উত্সবের ব্যস্ততা। সভাপতি মুরারি লাল লোহিয়া, প্রাক্তন সচিব কল্যাণ মজুমদার থেকে প্রাক্তন ফুটবলার মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, ভাস্কর গাঙ্গুলি, প্রশান্ত ব্যানার্জি, মেহতাব হোসেনদের উপস্থিতিতে লাল-হলুদ তাঁবু সরগরম। ছিলেন ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবেও। প্রথা মেনে বারপুজোর মঞ্চেই নতুন মরশুমের অধিনায়ক হিসেবে মহম্মদ রাকিপের নাম ঘোষণা করেন শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার। সহ-অধিনায়ক লালচুংনুঙ্গা। শীর্ষকর্তার মন্তব্য, ‘লিগ এখনও ওপেন। ছেলেরা সেরাটা উজাড় করে দিলে দল চ্যাম্পিয়ন হবেই।’ তবে লাল-হলুদ ক্লাবে সেরা চমকের নাম হোসে রামিরেজ ব্যারেটো। শীর্ষকর্তার ডাকে ইস্ট বেঙ্গল তাঁবুতে আলো ছড়ালেন ব্রাজিলিয়ান। ভবানীপুর ক্লাবের বারপুজোতেও চাঁদের হাঁট। সংগ্রাম মুখোপাধ্যায়, শিলটন পালদের উপস্থিতিতে জমজমাট রানি রাসমণি সরণি। সবমিলিয়ে ময়দানের বারপুজো মানেই আবেগ, ভালোবাসার বন্ধন।