Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে আটকে খানাকুলের ছেলে, চিন্তায় পরিবার

হরমুজ প্রণালীর কাছে জাহাজ নিয়ে আটকে খানাকুলের ঘরের ছেলে। চিন্তায় ঘুম, খাওয়া দাওয়া কার্যত শিকেয় উঠেছে পরিবারের সদস্যদের।

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে আটকে খানাকুলের ছেলে, চিন্তায় পরিবার
  • ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: হরমুজ প্রণালীর কাছে জাহাজ নিয়ে আটকে খানাকুলের ঘরের ছেলে। চিন্তায় ঘুম, খাওয়া দাওয়া কার্যত শিকেয় উঠেছে পরিবারের সদস্যদের। এখন তাঁদের একটাই কামনা, যুদ্ধ থেমে দ্রুত শান্তি ফিরুক বিশ্বে। তাহলেই দেশের মাটিতে সুষ্ঠুভাবে পা রাখতে পারবেন খানাকুলের অরুণ্ডা পঞ্চায়েতের ধারা শিমুল গ্রামের বাসিন্দা ২৫ বছরের রাহুল পোল্লে।

Advertisement

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রাহুল প্রায় আট বছর ধরে জাহাজের কাজ করেন। তিনি সেখানে পাম্প ম্যানের কাজ করেন। কিন্তু বর্তমানে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন তাঁরা। শারজা বন্দর ও হরমুজ প্রণালীর মাঝে নীল জলরাশিতে থমকে রয়েছে তাঁদের জাহাজ। তবে, খাওয়া-দাওয়ার তেমন অসুবিধা নেই বলেই পরিবারকে ফোনে জানিয়েছেন রাহুল। কিন্তু কবে বাড়ি ফিরবেন, তা নিয়েই উৎকণ্ঠায় পরিবার। খানাকুলের বাড়িতে পরিবার, পরিজনেররা পথ চেয়ে বসে আছে।
রাহুল জানিয়েছেন, চলতি বছরের প্রথম দিকে প্রায় দু’মাস বাড়িতেই ছুটি কাটান তিনি। তারপর ডাক এলে গত ১৩ মার্চ কলকাতা থেকে বিমানে দুবাইয়ে যান। সেখান থেকে ইরাক যান। এখন একটি অপরিশোধিত তেল বহনকারী জাহাজে কাজ করছেন। এবার দেশে ফেরার কথা। কিন্তু হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ নিয়ে যাওয়ার অনুমতি না মেলায় আটকে রয়েছেন সমুদ্রে। 
রাহুল হোয়াটসঅ্যাপ কলে বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে আপাতত জাহাজ নিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি নেই। মাঝেমাঝে যুদ্ধ বিমান ও মিসাইলের আলো দেখেছি। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ নিয়ে যাওয়ার আগে একবার অনুমতি মিলেছিল। কিন্তু আসা সম্ভব হয়নি। তবে, আমাদের সংস্থা নিয়মিত যোগাযোগে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আমরা রওনা দেব। বাড়িতে কথা হচ্ছে। চিন্তা করতে বারণ করেছি। তবে, আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় খানাকুলে ভোট দিতে পারবেন না বলেও তিনি আশঙ্কা করছেন।
রাহুলের পরিবারে বাবা, মা ও দাদা রয়েছেন। বাবা চাষি। দাদা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী। কলকাতায় পোস্টিং। উচ্চ মাধ্যমিক পড়া শেষ করে এক মামার অনুপ্রেরণায় রাহুল জাহাজের কাজে যোগ দেন। গুজরাত, মুম্বইয়ে কাজ করেছেন। এক বছর ইরানেই ছিলেন। রাহুলের মা রজনী পোল্লে সোমবার বলেন, মায়ের মন। তাই ছেলের জন্য চিন্তা হচ্ছে। যুদ্ধ মিটে গিয়ে ছেলে দ্রুত বাড়ি ফিরলেই স্বস্তি মিলবে। রাহুলের বাবা তাপসবাবু বলছেন, আমরা গ্রামে চাষ করে খাই। হরমুজ প্রণালী নিয়ে খবর শুনেছি। তাই চিন্তা তো আছেই। ছেলে দেশের মধ্যেই কাজ করলে ভাল হয়।
পাঁচপুকুর হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিমাদ্রি শেখর চট্টোপাধ্যায় বলেন, রাহুল আমাদের স্কুলের ছাত্র। এই ঘটনার পর আমার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। মাঝে মাঝে খোঁজ খবর নিচ্ছি। দ্রুত দেশে ফিরলেই ভাল হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ