ফিফা র্যাঙ্কিং ১৪২। দেশের এক নম্বর টুর্নামেন্ট ঘিরে এখনও জট কাটেনি। ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রবল উদ্বেগে ফুটবল মহল। সমস্যা কোথায়? সমাধানই বা ঠিক কী? কঠিন সময়ে বর্তমানের পাঠকদের জন্য কলম ধরলেন প্রাক্তন তারকা ফুটবলার।
ফিফা র্যাঙ্কিং ১৪২। দেশের এক নম্বর টুর্নামেন্ট ঘিরে এখনও জট কাটেনি। ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রবল উদ্বেগে ফুটবল মহল। সমস্যা কোথায়? সমাধানই বা ঠিক কী? কঠিন সময়ে বর্তমানের পাঠকদের জন্য কলম ধরলেন প্রাক্তন তারকা ফুটবলার।
কাফা নেশনস কাপে শক্তিশালী ওমানকে বশ মানিয়ে ব্রোঞ্জ পায় ভারত। প্রবল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্লু টাইগার্সের লড়াই মুগ্ধ করেছিল ফুটবলপ্রেমীদের। কিন্তু কত দ্রুত পাল্টে গেল পরিস্থিতি! এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে বাংলাদেশের কাছে ভরাডুবির পর সমালোচনার ঝড় বইছে। কোচ খালিদ জামিলের ভূমিকা নিয়েও অনেক প্রশ্ন। মুম্বইকরের সামনে খোলা মাঠ পড়েছিল। অথচ অহেতুক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে নিজের উপর চাপ ইনভাইট করল খালিদ। চট করে কোনও কোচই উইনিং কম্বিনেশন ভাঙতে চান না। কিন্তু খালিদ উল্টো পথের পথিক। এখনও সেট টিম গড়তে ব্যর্থ। প্রায় প্রতি ম্যাচে প্রথম এগারোয় একগাদা পরিবর্তনের ভাবনা একেবারেই যুক্তিহীন। আল্ট্রা-ডিফেন্সিভ ফর্মেশন খালিদের প্রিয়। ওর স্ট্র্যাটেজির সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় দরকার ফুটবলারদের। স্কোয়াডে নিত্যনতুন মুখ আমদানি নিষ্প্রয়োজন। ব্যক্তিগত মত, এতে কেউই থিতু হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। মুম্বইকরের একবগ্গা চিন্তাভাবনাও দলের ক্ষতি করছে। দেশের স্বার্থে ইগো সরিয়ে রেখে সেরা দল মাঠে নামানো উচিত। আন্তর্জাতিক মঞ্চ ছেলেখেলার জায়গা নয়। বাংলাদেশ ম্যাচ সেই হলুদ কার্ডই দেখিয়ে দিল। মধুচন্দ্রিমা অতীত। খালিদের এবার সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
ম্যারাথন কেরিয়ারে বহু উত্থান-পতনের সাক্ষী। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, খেলার মাঠে ফুটবলারের ভূমিকা অনেকটা যোদ্ধার মতো। কোচ স্ট্র্যাটেজি ঠিক করে দেন। কিন্তু মাঠে নেমে লড়তে হয় ফুটবলারদের। তাগিদ, জেদ, লড়াকু মানসিকতা ছাড়া যুদ্ধজয় অসম্ভব। পদ্মাপাড়ে গুরপ্রীত, সুরেশদের মানসিকতাও হতাশাজনক। পাঠক, ম্যাচের মুহূর্তগুলো মনে করার চেষ্টা করুন। বাংলাদেশের প্রতিটা ফুটবলারের বডি ল্যাঙ্গুয়েজে প্রমাণিত কতটা তেতে ছিল তারা। অন্যদিকে, ব্লু টাইগার্স ব্রিগেডকে বড়ই ম্রিয়মান দেখিয়েছে। এতটুকু তাগিদ চোখে পড়েনি। ফুটবলারের জীবনে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানো সবচেয়ে বড় মোটিভেশন। ভারতীয় ফুটবলাররা আর কবে তাগিদ দেখাবে? দলে বক্স স্ট্রাইকারের অভাব প্রকট। রহিম আলি দিশাহীন। খালিদও বিভ্রান্ত। অবিলম্বে প্রতিভাবান স্ট্রাইকারদের ‘পুল’ করা হোক। সুহেল ভাট, ডেভিড, লালবিয়ানিকাদের সিনিয়র দলে ডাকা উচিত। এরা প্রত্যেকেই লম্বা রেসের ঘোড়া। শুধু আত্মবিশ্বাস জোগানো প্রয়োজন। ৪০ বছরের সুনীল ছেত্রীকে অনেক সময় দিয়েছে ফেডারেশন। এবার জুনিয়রদের ম্যাচ টাইম দিয়ে তৈরি করা হোক।
পদ্মার জলে সলিল সমাধির পর ভারতের ফিফা র্যাঙ্কিং ১৪২। একধাক্কায় ছ’ধাপ পিছিয়েছে ব্লু টাইগার্স। জাতীয় দলের পারফরম্যান্স তলানিতে। তার উপর আইএসএল নিয়েও প্রবল জট। ফুটবলারদের রুটি-রুজি অনিশ্চিত। এমন পরিস্থিতি কল্পনার অতীত। প্রাক্তন ফুটবলার হিসেবে লজ্জায় মাথা হেঁট হওয়ার উপক্রম। অথচ ফেডারেশন উদাসীন। এমনটা চললে কোনও অভিভাবকই সন্তানকে মাঠে পাঠাতে চাইবেন না। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা, সমস্যা কাটিয়ে দ্রুত ছন্দে ফিরুক ভারতীয় ফুটবল।
মতামত লেখকের ব্যক্তিগত।