


ঢাকা: চিকিত্সার জন্য চার মাস লন্ডনে কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার তাঁর এয়ার অ্যাম্বু্ল্যান্স ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ২০১৮ সালে কারাবন্দি হওয়ার পর আর কোনও সমাবেশে অংশ নেননি বিএনপি চেয়ারপার্সন। তাই এদিন খালেদার দেশে ফেরার দিনটিকে কার্যত ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য বেছে নিয়েছিল তাঁর দল বিএনপি। বিমানবন্দর থেকে গুলশনের বাসভবন পর্যন্ত প্রায় ১০ কিমি রাস্তায় হাজার হাজার বিএনপি নেতা-কর্মী খালেদাকে স্বাগত জানান। তাঁদের হাতে ছিল দল ও বাংলাদেশের পতাকা। অনেকের হাতে প্ল্যাকার্ডও দেখা যায়। খালেদাও গাড়ি থেকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন। ভিড়ের চাপে দু’ঘণ্টা পর বাড়িতে পৌঁছান তিনি। বিএনপি নেতাদের মতে, খালেদা দেশে ফিরে আসায় অবিলম্বে নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চাপ বৃদ্ধি করা সহজ হবে।
চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিত্সার জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন ৭৯ বছর বয়সি খালেদা। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি লিভার সিরোসিস, কিডনি ও হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস ও আর্থারাইটিসের সমস্যায় ভুগছিলেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর লন্ডনে ছেলে তারেক রহমানের বাড়িতেই থাকছিলেন তিনি। এদিন বাড়ি ফেরার সময় খালেদার সঙ্গে ছিলেন দুই পুত্রবধূ জোবাইদা রহমান ও সৈয়দ শামিলা রহমান।
বিমানবন্দরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির বলেন, ‘আজকের দিনটি দেশ ও দেশবাসীর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার ফিরে আসা তাত্পর্যপূর্ণ। আমাদের নেত্রী ফিরে আসায় দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা সহজ হবে।’ জিয়া ট্রাস্টের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালে খালেদাকে কারাদণ্ড দেয় আদালত। ২০২০ সালে করোনার জন্য জেল থেকে মুক্তি দিয়ে তাঁকে গৃহবন্দি করা হয়। শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর মুক্তি পান খালেদা। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট খালেদাকে দুর্নীতি মামলা থেকে মুক্তি দেয়।