Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

কাটোয়ার কাচ নাচ

পূর্ববঙ্গের লোকসংস্কৃতির সঙ্গে জুড়ে রয়েছে কাচ নাচ। হারিয়ে যেতে বসা এই নাচের অনুষ্ঠান আজও দেখা মেলে কাটোয়ার পানুহাটে

কাটোয়ার কাচ নাচ
  • ২৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

পূর্ববঙ্গের লোকসংস্কৃতির সঙ্গে জুড়ে রয়েছে কাচ নাচ। হারিয়ে যেতে বসা এই নাচের অনুষ্ঠান আজও দেখা মেলে কাটোয়ার পানুহাটে। শিবের গাজনের সময়। গ্রামে গ্রামে কাচ নাচের মাধ্যমে পৌরাণিক পালা দেখিয়েই নিজেদের সংস্কৃতি ধরে রেখেছেন শিল্পীরা। চৈত্র মাসে নীলপুজোর দু’দিন পূর্ববঙ্গের যশোর, ফরিদপুর, পাবনা সহ বেশ কিছু জেলায় কাচ নাচের চল রয়েছে। সেখানে অবশ্য এটি লাল কাচ বা ঢোল কাচ নাচ নামে পরিচিত। এখন কাটোয়ার পানুহাটে এই কাচ নাচ দেখানো হয়। কঠিন সংযমের মধ্যে নিরামিষ খেয়ে শিল্পীরা কাচ নাচ দেখিয়ে থাকেন। শিব-দুর্গা, অসুর বধ, শিব-কালী, রাম-লক্ষ্মণ-হনুমান, রামসীতা পালা, কালীনাচ, মুখোশ পড়ে ভালুক নাচ-প্রভৃতি নানারকমের নাচ রয়েছে। মুখে রং মেখে সাজপোশাক পরে ঢাকঢোল, সানাইয়ের তালে নাচ দেখানো হয়। প্রতি পাড়ায় বাড়ি বাড়ি শিল্পীদের নিমন্ত্রণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। ১০-১৫ জনের শিল্পীদের দল কাচ নাচ দেখিয়ে মানুষের মনোরঞ্জন করেন। সামান্য কিছু সাম্মানিক পান। সেই টাকা আবার তাঁরা নীলপুজোয় ব্যয় করেন। দেশভাগের পর পূর্ববঙ্গের বহু মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন। সেইসঙ্গে এনেছেন তাঁদের এই প্রাচীন লোকসংস্কৃতি। কাটোয়ার পানুহাট অঞ্চলে পূর্ববঙ্গ থেকে আসা বহু পরিবার বসবাস করে। পানুহাটের বারুজীবী কলোনির ইয়ং বয়েজ ক্লাবের হাত ধরে কাচ নাচের ঐতিহ্য এখনও বজায় রয়েছে। এই ঐতিহ্য যাতে হারিয়ে না যায়, সেজন্য স্থানীয় শিল্পীরা নিরলস চেষ্টা করছেন। এমনই শিল্পী বিপ্লব দেবনাথ, উৎপল পাল, কৃষ্ণ রক্ষিত, দেবু দাস, চয়ন দাস, মুন্না রক্ষিত, শঙ্কু দাসরা বলেন, বাংলাদেশে আমাদের পূর্বপুরুষরাও চৈত্র মাসে কাচ নাচ করতেন। দেশভাগের পর পশ্চিমবঙ্গে এসেও আমরা সেই নাচ দেখিয়ে থাকি। এটাই আমাদের নেশা। নতুন প্রজন্মকেও আমরা এই লোকসংস্কৃতির প্রতি আকর্ষিত করতে পেরেছি। কাচ নাচের শেষদিনে আমরা একসঙ্গে বসে খাওয়াদাওয়া করি। এই লোকসংস্কৃতি আমাদের প্রাণ।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ