বোলপুর শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে কঙ্কালীতলা সতীপীঠ। পর্যটনস্থল ও তীর্থক্ষেত্র হিসেবে এই মন্দিরের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। সারা বছরই নানা অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে এখানে ভিড় জমান পর্যটক থেকে পুণ্যার্থীরা। আর সেসবের মধ্যে আলাদা স্থান করে নিয়েছে কাঞ্চিদেশ উৎসব। স্থানীয়দের কাছে অবশ্য তা কঙ্কালী মেলা হিসেবেই পরিচিত। এই উৎসব মূলত দেবী কঙ্কালীর বাৎসরিক পুজো। চৈত্র সংক্রান্তিতে শুরু হয়। চলে সাতদিন। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী সতীর কাঁকাল বা কোমরের অংশ এখানে পড়েছিল। কাঁকাল থেকেই নামকরণ হয় কঙ্কালীতলা। কিন্তু উৎসবের নামকরণ ‘কাঞ্চিদেশ’ কেন? তা নিয়ে প্রচলিত নানা মত। অনেকে বলেন, প্রাচীনকালে এই অঞ্চল কাঞ্চিদেশের অংশ ছিল। সেই থেকে কাঞ্চিদেশ উৎসব। আবার কারও মতে, দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাবেই এই অঞ্চলের এমন নামকরণ। তবে নামের উৎপত্তির কারণ যাই হোক না কেন, এই উৎসব বহু বছর ধরে এই এলাকার জনজীবন ও জীবিকায় এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রয়েছে। সাতদিনের এই উৎসবে কবিগান, সাংস্কৃতিক নৃত্য, সঙ্গীতানুষ্ঠান, পঞ্চরস, যাত্রাপালা, ভাদুগানের প্রতিযোগিতা, আতশবাজির প্রদর্শনী ও আদিবাসী বিচিত্রানুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এছাড়াও দিনের বেলায় স্থানীয় লোকনৃত্য ও গানের আয়োজনে মুখর হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। বিশেষত বাউল গান এই অঞ্চলের সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ধর্মীয় আলোচনা সভা ও কীর্তনও হয়। এটি শুধু একটি মেলা নয়, স্থানীয় সংস্কৃতি-ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক।



