


নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: শীত পড়তেই ঝাড়গ্রামে জঙ্গলের চেহারা বদলে গিয়েছে। আলোছায়া বনে দিনরাত ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে। অজানা পাখির ডাক শোনা যাচ্ছে। কলাবনীর জঙ্গলে এক দশক আগে ‘বাদশাহী আংটি’ সিনেমার শেষ দৃশ্যের শুটিং হয়েছিল। শীতে পর্যটকদের ডেস্টিনেশন হয়ে উঠেছে সেই কলাবনীর জঙ্গল।
ঝাড়গ্রাম শহরের দক্ষিণ প্রান্ত শেষ হলেই কলাবনীর জঙ্গল শুরু। শালগাছের সবুজ পাতা ভেদ করে এখানে সূর্যের আলো এসে পৌঁছয়। জঙ্গলের পথে হাতির পাল মাঝেমধ্যে এসে পড়ে। গাছের গুঁড়ির নীচে খরগোশরা বাসা বাঁধে। শালপাতা, কখনও আবার শিকারের খোঁজে স্থানীয় বাসিন্দারা জঙ্গলে ঢোকে। এক দশক আগে পরিচালক সন্দীপ রায় কলাবনীর জঙ্গলে বাদশাহী আংটি সিনেমরা শেষ দৃশ্যের শুটিং করেছিলেন। সত্যজিৎ রায়ের লেখা বাদশাহী আংটি গল্পে উত্তরাখণ্ডের লছমনঝুলার জঙ্গলের প্রসঙ্গ রয়েছে। গল্পে প্রতিপক্ষ বনবিহারীবাবুর সঙ্গে ফেলু মিত্তিরের সেয়ানে সেয়ানে লড়াই হয়েছিল। মগজাস্ত্রকে ব্যবহার করে ফেলুদাই শেষ হাসি হেসেছিলেন। বাদশাহী আংটি সিনেমার সিনেমার শেষ দৃশ্যের শ্বাসরুদ্ধকর ঘটনা দর্শকদের মেরুদণ্ড দিয়ে আজও ঠান্ডা স্রোত বয়ে দেয়। ঝাড়গ্রামে বেড়াতে আসা বহু পর্যটক কলাবনীর জঙ্গলের শুটিং স্পট দেখতে আসেন। কলাবনী ও ঝাড়গ্রাম রাজপ্রাসাদে ‘টিনটোরেটো যিশু’-র শুটিংও হয়েছিল। বাংলা সিনেমার পরিচালকদের কাছে ঝাড়গ্রাম বরাবরের আকর্ষণস্থল। ঝাড়গ্রাম প্রথম ‘মরুতীর্থ হিংলাজ’ সিনেমার শুটিং হয় ১৯৫৯ সালে। ওদোলচুয়ার কেতকি ঝর্নার কাছে। পীযূস বোস পরিচালিত ও উত্তমকুমার অভিনীত ‘সন্ন্যাসী রাজা’ সিনেমার শুটিং হয় ১৯৭৫ সালে। বেলপাহাড়ীর কাকড়াঝোড় জঙ্গলে ১৯৭৮ সালে বিখ্যাত বাংলা ছবি ‘চারমূর্তি’-র শুটিং হয়েছিল। কলাবনীর জঙ্গলে ২০০৮ সালে সন্দীপ রায় টিনটোরেটোর যিশু সিনেমার শুটিং করেন। ২০১৪ সালে কলাবনীর জঙ্গলে বাদশাহী আংটির শেষ দৃশ্যের শুটিং করেছিলেন। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় ২০০৯ সালে ‘ব্রেকফেল’ সিনেমার শুটিং করেছিলেন। অনীক দত্ত ‘মেঘনাদ বধ রহস্য’ সিনেমার শ্যুটিংও ২০১৭ সালে করেছিলেন। অরণ্য অধ্যুষিত ঝাড়গ্রামে কয়েক দশক ধরে সিনেমার শুটিং হয়ে চলেছে। ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির তরুণ সদস্য বিক্রমাদিত্য মল্লদেব বলেন, রাজবাড়িতে একাধিক সিনেমার শুটিং হয়েছে। বাদশাহী আংটি ও টিনটোরেটোর যিশু সিনেমার শুটিং সবচেয়ে বেশি আমাকে প্রভাবিত করেছিল। সত্যজিৎ রায়ের পুত্র সন্দীপ রায়ের সঙ্গে কথা বলেও মুগ্ধ হয়েছিলাম। টিনটোরেটোর যিশু সিনেমার শুটিংয়ের কারণেই ইটালিতে গিয়ে রেনাশাঁর সময়ের চিত্রকরদের বহু অরিজিনাল ছবি দেখেছিলাম। ঝাড়গ্রাম হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক শিবাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, ঝাড়গ্রাম জেলায় বাংলা সিনেমার শুটিং স্পটগুলিকে নিয়ে ফিল্ম ট্যুরিজমের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি এই উদ্যোগে জেলায় পর্যটনের আরও প্রসার ঘটবে। শহরের বাসিন্দা শিল্পী সুবীর বিশ্বাস বলেন, ঝাড়গ্রাম একের পর এক বাংলা সিনেমার শুটিং হয়েছে। সেই জেলাতেই এখন কোনও প্রেক্ষাগৃহ নেই। জেলার মানুষ সিনেমা দেখতে খড়্গপুরে যান। ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক আকাঙ্খা ভাস্কর বলেন, ঝাড়গ্রামে বৃহৎ অডিটোরিয়াম গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলছে। সেখানে প্রেক্ষাগৃহ তৈরি করা যায় কি না, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।-নিজস্ব চিত্র