


সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: ছাত্রী মৃত্যুর ঘটনায় ধৃত আইনজীবী শেখ মানোয়ার আলমকে রবিবার কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে তিনদিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। কাকদ্বীপ বার অ্যাসোসিয়েশনের কোনও আইনজীবী তাঁর হয়ে আদালতে সওয়াল না করায় শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত মানোয়ার বিচারকের কাছে সরকারি আইনজীবী চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন। মূলত ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনার পর বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত আইনজীবী মানোয়ারের সদস্যপদ বাতিল করে দেওয়া হয়। অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, অভিযুক্তের পক্ষে কোনও আইনজীবী আদালতে সওয়াল করবেন না।
গত ১২ নভেম্বর ছাত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই এই আইনজীবী পলাতক ছিলেন। বিভিন্ন সোর্সকে কাজে লাগিয়ে গত বুধবার রাতে তাঁকে তেলেঙ্গানা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তারপর ট্রানজিট রিমান্ডে কাকদ্বীপে নিয়ে আসা হয়। রবিবার তাঁকে আদালতে তোলা হয়। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে, ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনার দিন দু’জনের মধ্যে বচসা হয়েছিল। তারপর আইনজীবী মানোয়ার চেম্বার ছেড়ে বেরিয়ে যান। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ওই ঘটনার পরেই ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তবে ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছে ওই আইনজীবী। সেই সূত্র ধরে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
প্রসঙ্গত, কাকদ্বীপের প্রতাপাদিত্যনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের নয়াপাড়ায় আইনজীবী শেখ মানোয়ার আলমের চেম্বার থেকে ছাত্রী সোনিয়া হালদারের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এরপর ওই ছাত্রীর পরিবার আইনজীবীর বিরুদ্ধে কাকদ্বীপ থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত আইনজীবীকে গ্রেফতার করেছে।