


লখনউ: মহকুমা শাসক, পুরসভার চেয়ারম্যান ও এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ তুলে ক্যামেরার সামনেই বিষ খেলেন উত্তরপ্রদেশের এক সাংবাদিক ও তাঁর স্ত্রী। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের পিলভিট। বিষ খাওয়ার আগে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা ওই ভিডিওতে ইসরার হুসেন নামে ওই সাংবাদিক অভিযোগ করেন, দুর্নীতির খবর করার জন্য তাঁকে ক্রমাগত হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। এর জন্য উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে বিচারও চান তাঁরা। পুলিস সূত্রে খবর, ওই সাংবাদিক ও তাঁর স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইসরার আপাতত বিপন্মুক্ত হলেও তাঁর স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিষয়টি নিয়ে হইচই শুরু হতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
ইসরার পিলভিটের স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমে কাজ করেন। ওই সাংবাদিক তাঁর পোস্ট করা ভিডিওতে দাবি করেন, সম্প্রতি বড়খেদা পুরসভার দুর্নীতি নিয়ে তিনি অনুসন্ধান চালিয়েছিলেন। তাঁর প্রতিবেদন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। এরপর ওই পুরসভার দুর্নীতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরও নড়েচড়ে বসে। আর তারপরেই বিশালপুরের মহকুমা শাসক নগেন্দ্র পান্ডে, বড়খেদা পুরসভার চেয়ারম্যান শ্যামবিহারী ভোজওয়াল ও মইন হুসেন নামে এক ঠিকাদার তাঁকে হেনস্তা করতে শুরু করেন। ইসরারের পরিবারকে হুমকি দেওয়া ও ভুয়ো মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার কথা বলেন তাঁরা। ভিডিওতে ইসরার বলেন, ‘আমরা বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করছি। যোগীজি, আমরা বিচার চাই।’ যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তিনজন। মহকুমা শাসকের দাবি, দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তিনি বড়খেদা থানার এসএইচও-কে তদন্ত করতে বলেছিলেন। পুলিস তদন্তের পর জানিয়ে দেয়, সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। এমন কোনও ঘটনাই ঘটেনি। অন্যদিকে, চেয়ারম্যান ভোজওয়াল জানিয়েছেন, বিষ খাওয়ার সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই। তবে ঠিকাদারের সঙ্গে ওই সাংবাদিকের গোলমাল থাকতে পারে। অভিযুক্ত ঠিকাদারের আবার দাবি, ওই সাংবাদিক তাঁর কাছে টাকা চেয়েছিলেন। তা না পেয়েই ভুয়ো খবর প্রকাশ করেছিলেন। সার্কেল অফিসার প্রতীক দাহিয়া জানিয়েছে, তদন্তে সমস্ত দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।