


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পতি নয়। গুরু। দিল্লির ঐতিহ্যবাহী জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) বিভিন্ন ডিগ্রি কোর্স অথবা অন্যান্য শংসাপত্র এবং নথিপত্রে এবার ‘কুলপতি’র পরিবর্তে ‘কুলগুরু’ হিসেবে স্বাক্ষর করবেন উপাচার্য। গত এপ্রিল মাসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠকে এই ব্যাপারে প্রথম প্রস্তাব গৃহীত হয়। তার দু’মাসের মাথায় এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূলত ‘লিঙ্গ নিরপেক্ষতা’কে প্রাধান্য দিতেই ‘কুলপতি’র পরিবর্তে ‘কুলগুরু’ শব্দের ব্যবহারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য একজন মহিলা। জানা যাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠকে ঠিক এই যুক্তিতেই পাস হয়েছে উল্লিখিত প্রস্তাব। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এতদিন হিন্দিতে যে স্বাক্ষর করতেন, সেখানে ‘ডেজিগনেশন’ হিসেবে ‘কুলপতি’ শব্দের উল্লেখ থাকত। হিন্দিতে স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে সেই শব্দই পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই ব্যাপারে প্রতিবাদে সরব হয়েছে জেএনইউ ছাত্র সংসদ। জেএনইউএসইউয়ের বাম প্যানেলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আদতে সঙ্ঘ পরিবারের ছায়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজকর্ম চালাতে চাইছেন। ঐতিহ্য ভেঙে ‘কুলপতি’ থেকে ‘কুলগুরু’ শব্দের প্রচলন সেই পরিকল্পনারই নবতম সংযোজন। ইতিমধ্যেই বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশ এবং রাজস্থান সরকার বিশেষ প্রস্তাবনা পাস করিয়ে ‘কুলগুরু’ শব্দের ব্যবহার শুরু করেছে রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে।