Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

২৬ জানুয়ারি বোরো চাষে জল, আরামবাগে বাঁধ নির্মাণে প্রস্তুতি

২৬ জানুয়ারি বোরো চাষে জল, আরামবাগে বাঁধ নির্মাণে প্রস্তুতি
  • ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: আগামী ২৬ জানুয়ারি থেকে বোরো চাষের জন্য জল দেবে ডিভিসি। সেই জল সঞ্চয় করে রাখার জন্য আরামবাগ, খানাকুল-১ ও খানাকুল-২ ব্লকে বিভিন্ন নদীর উপর বোরো বাঁধ দেওয়ার কাজে তৎপরতা শুরু হয়েছে। খানাকুল-১ ব্লকে সম্প্রতি টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শীঘ্রই কাজ শুরু হবে। হুগলি জেলা পরিষদের কৃষি, সেচকর্মাধ্যক্ষ মদনমোহন কোলে বলেন, বোরো বাঁধ তৈরির জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। 
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আরামবাগের সালেপুর-২ পঞ্চায়েত এলাকার তেমুহানিতে দ্বারকেশ্বর নদের উপর বোরো বাঁধ দেওয়া হয়। এছাড়া খানাকুল-১ ব্লকের চক ভেদুয়া, রঘুনাথপুর, বন্দিপুর, বেনেজোলা, গঞ্চা, কালুয়া, গুজরাত প্রভৃতি জায়গাতেও দ্বারকেশ্বর ও খালের উপর বোরো বাঁধ দেওয়া হয়। মাটি  শাল বল্লা, হোগলা পাতা, খড় প্রভৃতি সামগ্রী দিয়ে তৈরি হয় বোরো বাঁধ। খানাকুল-২ বিডিও মধুমিতা ভট্টাচার্য বলেন, শসাপোতা ও বালিগোড়িতে বোরো বাঁধ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। বাকি জেলা পরিষদের তরফে করা হচ্ছে। 
উল্লেখ্য, বোরো বাঁধ দিয়ে নদীতে ধরে রাখা হয় জল। সেই জলেই নদী তীরবর্তী জমিতে সেচের কাজ করেন চাষিরা। দীর্ঘদিন ধরে একই পদ্ধতিতে বোরো বাঁধের কাজ হয়ে আসছে। বর্ষার আগে সেই বোরো বাঁধ সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বোরো বাঁধ সম্পূর্ণ না ভাঙার ফলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলে তা বিপজ্জনক। জলের চাপে নদীর মূল বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। চলতি বছরে খানাকুলের তালিত, বন্দিপুর এলাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। খানাকুল-১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি মিন্টু পাল বলেন, আমাদের ব্লকের সাতটি বোরো বাঁধের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত বাঁধ তৈরির কাজ শুরু হয়ে যাবে। বোরো চাষের মরশুম শেষ হলেই বাঁধ ভেঙে দিতেও আমরা বলেছি। এজন্য খরচও ধরা রয়েছে।
সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিভিসি ২৬ জানুয়ারি থেকে বোরো চাষের জন্য জল দেবে। সেই জল মুণ্ডেশ্বরী নদী দিয়ে আরামবাগ ও খানাকুলে যাবে। খানাকুল-২ ব্লকে মুণ্ডেশ্বরী নদীর উপর বোরো বাঁধ দেওয়ার কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। কংসাবতী জলাধার থেকে ছাড়া জল ক্যানেল দিয়ে দ্বারাকেশ্বর নদে আসবে। খানাকুলের একাংশে সেই নদের উপরেও বাঁধ দেওয়া হবে। জল ছাড়ার আগেই বাঁধের কাজ শেষ করার দাবি বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
সম্পর্কিত সংবাদ