Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

জিন্না-কন্যার নাগরিকত্ব

‘হিন্দু ও মুসলিমরা কখনও একসঙ্গে বাস করতে পারে না। তাই মুসলিমদের জন্য চাই আলাদা দেশ।’

জিন্না-কন্যার নাগরিকত্ব
  • ৫ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

‘হিন্দু ও মুসলিমরা কখনও একসঙ্গে বাস করতে পারে না। তাই মুসলিমদের জন্য চাই আলাদা দেশ।’ একটি কথাতেই ভারতীয় উপমহাদেশে ভেদাভেদের বীজ বুনে দিয়েছিলেন মহম্মদ আলি জিন্না। যার ‘বিষ’ এখনও বয়ে চলেছে ভারত-পাকিস্তান। মজার বিষয়, যে জিন্না একদিন ঘোষণা করেছিলেন ‘পাকিস্তান আমাদের কাছে বাঁচা-মরার বিষয়’, তাঁর মেয়েই কোনওদিন পাকিস্তানের নাগরিক হননি। এমনকী পাকিস্তানের জনকের পরবর্তী প্রজন্ম ছিলেন ভারতের নাগরিক! ১৮৭৬ সালের ২৫ ডিসেম্বর তৎকালীন বোম্বে প্রেসিডেন্সির করাচিতে জন্মগ্রহণ করেন জিন্না। জন্মের সময় তাঁর নাম ছিল মাহমেদালি জিন্নাভাই। তাঁর পূর্বপুরুষরা ছিলেন হিন্দু। পরে বর্তমান গুজরাতের কাথিয়াওয়াড় থেকে তাঁরা করাচি চলে যান। তবে জিন্না দাবি করতেন, তাঁদের পূর্বপুরুষ ছিলেন রাজপুত। প্রথম স্ত্রী এমিবাইয়ের মৃত্যুর পর রত্তনবাই পেটিটকে বিয়ে করেন তিনি। ১৯১৯ সালে লন্ডনে তাঁদের একমাত্র কন্যা ডিনার জন্ম হয়। ডিনার ৯ বছর বয়সে মারা যান রত্তনবাই। ১৯৩৮ সালে ডিনা তত্কালীন বোম্বের পার্সি ব্যবসায়ী নেভিল ওয়াদিয়াকে বিয়ে করেন। কিন্তু মেয়ের ভিনধর্মে বিয়ে মানতে পারেননি জিন্না। বিয়ের অনুষ্ঠানেও আসেননি তিনি। নেভিল ও ডিনা বোম্বেতেই সংসার পাতেন। ১৯৪৩ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর আজীবন নিউ ইয়র্কেই বসবাস করেন ডিনা। 

Advertisement

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান তৈরি হয়। জিন্না পরিচিত হন পাকিস্তানের ‘কায়েদ-ই-আজম’ হিসেবে। কিন্তু ডিনা কোনওদিন পাক নাগরিকত্ব গ্রহণ করেননি। তাঁর দুই সন্তান নুসলি ও ডায়না ওয়াদিয়াও ভারতেই থেকে যান। বর্তমানে ৮১ বছর বয়সি নুসলি ভারতের অন্যতম বৃহত্ বাণিজ্য সংস্থা ওয়াদিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান। ২০১৭ সালে ৯৮ বছর বয়সে প্রয়াত হন ডিনা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ