Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

আত্মঘাতী হামলার পক্ষে সাফাই, জেহাদি চিকিৎসক উমর নবির ভিডিয়ো প্রকাশ্যে, ভাইকে জেরা করে উদ্ধার মোবাইল

ইসলামে আত্মহত্যা নিষিদ্ধ। তাহলে আত্মঘাতী হামলা কি ইসলাম বিরোধী? এবিষয়ে একটি ভিডিয়ো রেকর্ড করেছিল দিল্লি বিস্ফোরণের আত্মঘাতী জঙ্গি চিকিৎসক উমর উন নবি।

আত্মঘাতী হামলার পক্ষে সাফাই, জেহাদি চিকিৎসক উমর নবির ভিডিয়ো প্রকাশ্যে, ভাইকে জেরা করে উদ্ধার মোবাইল
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ইসলামে আত্মহত্যা নিষিদ্ধ। তাহলে আত্মঘাতী হামলা কি ইসলাম বিরোধী? এবিষয়ে একটি ভিডিয়ো রেকর্ড করেছিল দিল্লি বিস্ফোরণের আত্মঘাতী জঙ্গি চিকিৎসক উমর উন নবি। হামলার আগে রেকর্ড করা ওই ভিডিয়োতে আত্মঘাতী হামলার পক্ষে জোরালো সওয়াল করতে দেখা গিয়েছে তাকে। জয়েশ মডিউলে মগজধোলাই হওয়া এই জেহাদি চিকিৎসকের সাফাই, আত্মঘাতী বিস্ফোরণ নিয়ে সমাজে ‘ভ্রান্ত ধারণা’ রয়েছে। যদিও বাস্তবে তা ‘শাহাদাত অভিযান’। অর্থাৎ এর মাধ্যমে মেলে শহিদের স্বীকৃতি। উমরের ফোন থেকেই তদন্তকারীদের হাতে এসেছে হাড়হিম করা এই ভিডিয়ো। 

Advertisement

জঙ্গি চিকিৎসকের ভাই জাহুর ইলাহিকে জেরা করে ওই ফোনের হদিশ পায় জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। প্রকাশ্যে আসা ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, উমরের গায়ে কালো টি-শার্ট। সেখানে রয়েছে ল্যাপেল। সামনে বসানো ক্যামেরায় রেকর্ডিং চলছে। ভাবলেশহীন সম্পূর্ণ নির্লিপ্ত ও শান্ত গলায় ঝরঝরে ইংরেজিতে ‘সুইসাইড বোম্বিং’-র পক্ষে সওয়াল করে চলেছে উমর। 
ফলে দিল্লির বিস্ফোরণ যে মোটেও ভয়ের চোটে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে পালাতে গিয়ে হয়নি, তা এখন স্পষ্ট। ভিডিয়োতে উমরকে বলতে শোনা গিয়েছে, আত্মঘাতী হামলাকারীদের সম্পর্কে বেশিরভাগ মানুষেরই ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। তা হল, সুইসাইড বম্বারের তকমা সাঁটিয়ে দেওয়া। কিন্তু ইসলামে এটা আসলে ‘শাহাদাত অভিযান’। এবিষয়ে মতবিরোধ রয়েছে। বিরুদ্ধেও রয়েছে বহু যুক্তি। তবে ‘শাহাদাত অভিযান’ হল সেটাই, যেখানে কোন সময় ও কোথায় মৃত্যু হবে সেবিষয়ে একজনের আগাম ধারণা থাকে। তবে ঠিক কোন জায়গায় ও কখন মৃত্যু আসবে, তা হলফ করে বলাও সম্ভব নয়। কারণ মৃত্যু হল পূর্ব নির্ধারিত। তাই মৃত্যুকে ভয় কীসের?
দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডের পরই শ্রীনগরের এসএসপি জি ভি সন্দীপ চক্রবর্তীর গড়া একটি স্পেশাল টিম আত্মঘাতী জঙ্গি উমরের ভাই ইলাহিকে আটক করে। জেরার মুখে ভেঙে পড়ে ইলাহি জানায়, ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর কাশ্মীরে ছিল উমর। সেই সময়ই একটি মোবাইল ফোন হাতে দিয়ে উমর বলেছিল, আমার সম্পর্কে বিশেষ কোনও খবর কানে এলে এটা জলে ফেলে দিস। এরপর তদন্তকারীদের একটি আবর্জনার স্তূপের কাছে নিয়ে যায় ইলাহি। সেখান থেকে উদ্ধার হয় ফোনটি। হ্যান্ডসেটটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ভিডিয়ো উদ্ধারে সক্ষম হন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। আইএস এবং আল কায়েদার বিভিন্ন ভয়ানক আত্মঘাতী হামলার ভিডিয়োও রয়েছে ওই মোবাইলে। নিজেও বেশ কিছু ভিডিয়ো রেকর্ড করে উমর। তারই মধ্যে ছিল আত্মঘাতী বিস্ফোরণের পক্ষে সাফাইয়ের ভিডিয়োটি। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ মোবাইলটি এনআইএ-র হাতে তুলে দিয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ