Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অষ্টমীর রাতে বনেদি বড়াল বাড়ির দুর্গা প্রতিমার গয়না চুরি, পুলিশের ভূমিকায় কেতুগ্রামে ক্ষোভ

অষ্টমীর রাতে কেতুগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বড়াল বাড়ির দুর্গা মন্দিরে তালা ভেঙে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে৷ কয়েক লক্ষ টাকার সোনার গয়না চুরি করার অভিযোগ উঠেছে৷

অষ্টমীর রাতে বনেদি বড়াল বাড়ির দুর্গা প্রতিমার গয়না চুরি, পুলিশের ভূমিকায় কেতুগ্রামে ক্ষোভ
  • ৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া : অষ্টমীর রাতে কেতুগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বড়াল বাড়ির দুর্গা মন্দিরে তালা ভেঙে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে৷ কয়েক লক্ষ টাকার সোনার গয়না চুরি করার অভিযোগ উঠেছে৷ ঘটনার পর তিনদিন কেটে গেলেও চুরির কোনও কিনারা করতে পারেনি পুলিশ৷ তাই দশমীর রাতে প্রতিমার মুখে কালো কাপড় বেঁধে বিসর্জন করা হয়৷ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ গ্রামের বাসিন্দারা৷ কাটোয়ার এসডিপিও কাশীনাথ মিস্ত্রী বলেন, ঘটনার পরেই আইসি নিজে মন্দিরে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন৷ আমরাও পুরো ঘটনা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করছি৷ 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে কেতুগ্রামের বড়াল বাড়ির দুর্গাপুজো ৪৮৩ বছরের প্রাচীন। বড়ালদের দৌহিত্র বংশ বটব্যাল পরিবার মূলত পালা করে এই পুজো চালিয়ে আসছেন৷  এছাড়া শরিক পরিবার হিসেবে রয়েছেন মুখোপাধ্যায়রা। বনেদি পরিবার বলে নামডাক রয়েছে বটব্যালদের। অধিকাংশই পেশার সুবাদে গ্রামের বাইরে থাকেন। পুজোর  সময় সবাই চলে আসেন। দেবীর বহু গয়না রয়েছে। বছরের অন্যান্য দিন বাড়িতে রেখে দেওয়া হয়। পুজোর সময় প্রতিমার অঙ্গে পরানো হয়। এত পরিমাণ গয়না পরানো হয় যে, দেবীর গা স্পর্শ করা যায় না৷ প্রাচীন রীতি মেনেই পুজো হয়৷ 
অষ্টমীর রাতে ঘটনাটি ঘটে৷ ওইদিন রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ পুলিশ বাইকে চড়ে মন্দিরের সামনে নজরদারি চালিয়ে চলে যায়৷ রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে একজন নৈশপ্রহরী মন্দিরের সামনে পাহারাও দিচ্ছিলেন। পুলিশ সেটাও দেখে যায়৷ পুলিশ চলে যাওয়ার পরেই আচমকা লোডশেডিং হয়ে যায়৷ পুজো উপলক্ষ্যে দুর্গা মন্দিরে আলোর জন্য জেনারেটরের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু গৃহকর্তা জেনারেটরের দায়িত্বে থাকা লোককে বারবার ফোন করেও যোগাযোগ করতে পারেননি। আর সেই সুযোগে দুর্গামন্দিরের পরপর দু’টি গেটের তিনটি তালা ভেঙে প্রতিমার গা থেকে যাবতীয় সোনার গয়না চুরি করে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। প্রায় ৬-৭ ভরি গয়না চুরি হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ৷ দুর্গামন্দিরে গ্রিলের গেট ছাড়াও রয়েছে একটি কোলাপসিবল গেট। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে রাতে গ্রিলের গেটে দুটি এবং কোলাপসিবল গেটের একটি তালা দেওয়া ছিল। সেগুলি ভেঙে ফেলা হয়। নবমীর দিন ভোরে উঠে সবাই চুরির ঘটনা জানতে পারেন৷ 
পরিবারের সদস্য তপন বটব্যাল বলেন, রাত একটা দশ নাগাদ দু’জন পুলিশ কর্মী বাইকে চড়ে আমাদের মন্দিরের সামনে আসেন। আমাদের মন্দিরে পাহারায় থাকা ছেলেটির সঙ্গে দেখা করে কথাবার্তা বলে চলে যায়। এরপর আমাদের ওই ছেলেটিও কিছুক্ষণ পর বাড়ি চলে যায়। রাত দেড়টা নাগাদ লোডশেডিং হয়। আমরা জেনারেটরম্যানকে বারবার ফোন করেও ফোনে পাইনি। প্রায় দেড় ঘণ্টা লোডশেডিং চলে। তখনও কিছু বুঝতে পারিনি। সকালে মন্দির খুলতে গিয়ে দেখা যায় তিনটি তালা ভেঙে চুরি হয়ে গিয়েছে। তারপর আমরা নৈশ প্রহরীকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারি রাতে কয়েকজন লোক এসে বলে তাকে বিশ্রাম নিতে৷ তারা নাকি মন্দির পাহারা দেবে৷ আমাদের নৈশ প্রহরী তাদের প্রাথমিক ভাবে পুলিশের লোক ভেবেছিলেন৷ কিন্তু এতবড় চুরি হয়ে যাবে ভাবতে পারেননি৷ পুলিশের ভূমিকা নিয়েও আমরা হতাশ৷ 
এদিকে, দশমীর দিন মা দুর্গা সহ লক্ষ্মী, সরস্বতী সবার চোখ মুখ কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে প্রতিবাদ স্বরূপ বিসর্জন করা হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ