মূল টিম রাশিয়ায়। সেখানে দেশের প্রথম উৎপাদিত উপগ্রহকে মহাকাশে পাঠানোর তোড়জোড় চলছে। আর ৫ হাজার কিলোমিটার দূরে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। উৎক্ষেপণের ৩০ মিনিটের মধ্যেই এল সুখবর। নির্বিঘ্নে কক্ষপথে পৌঁছে গিয়েছে ভারতের নিজের তৈরি প্রথম স্যাটেলাইট। দিনটি ছিল ১৯ এপ্রিল, ১৯৭৫। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার ৫০ বছর পূর্ণ হল। কর্ণাটকের পীন্য শহরে তৈরি হয়েছিল এই উপগ্রহের প্রতিটি অংশ। পুরো কাজটাই হয়েছিল অত্যন্ত সঙ্গোপনে। এমনকী, যাঁরা ওই অংশ তৈরির কাজ করছিলেন, তাঁরাও জানতেন না ঠিক কী হতে চলেছে। ওই এলাকায় অনেকগুলি কাঠামোয় কাজ চলছিল। সি সেকশনে কাজ করতেন রাধাকৃষ্ণাণ। তাঁর কথায়, আমরা সি সেকশনে কাজ করতাম। এ সেকশনে কাজ করতেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। আমাদের ওখানে যেতে গেলে এ সেকশন হয়েই যেতে হতো। দেখতাম সেখানে বহু জিনিস ওড়ানো হচ্ছে। নানাবিধ পরীক্ষা চলছে। বুঝতেই পারিনি সেখানে কি রাজসূয় যজ্ঞ হচ্ছে। তারপর শুনলাম স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আসবেন। তাঁকে দেখার জন্যও আমরা ভিড় করেছিলাম। বুঝতে পেরেছিলাম, বড় কিছু ঘটনা হবে। কিন্তু কী হচ্ছে ধরতে পারিনি। প্রায় ৩০ মাস ধরে ওই উপগ্রহের মডেল নির্মাণ করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। হয়েছিল নানাবিধ পরীক্ষা। সব পরীক্ষায় পাশের পর উপগ্রহের নাম ঠিক করা হয়। তিনটি নাম প্রাথমিকভাবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। আর্যভট্ট, জওহর ও মৈত্রী। জওহর নন, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা কিন্তু বেছে নিয়েছিলেন আর্যভট্টের নামই। কিছু টেকনিক্যাল কারণে ৩৬০ কেজি ওজনের আর্যভট্ট পাঁচদিনের মাথায় কাজ বন্ধ করে দেয়। ভারতের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে ১৯ এপ্রিল চিরস্মরণীয় থাকবে।



