


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কীভাবে দাহ করা হবে? কে দায়িত্ব নেবে? এই জটিলতায় মৃত্যুর পর প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে কলকাতা মেডিকেল কলেজের মর্গে পড়ে রইল জাপানি রোগীর মৃতদেহ। মিচি হিরো কাতা নামে ওই রোগী পাকস্থলীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁকে ২৪শে জুলাই শহরের একটি প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছিল। পাঁচ আগস্ট মৃত্যু হয়। তারপর কেটে যায় ১৬ দিন। দেহ ছিল মর্গে পড়ে। অবশেষে বৃহস্পতিবার জাপানি কনস্যুলেট, মহাবোধি সোসাইটি এবং একটি আন্তর্জাতিক সংগঠনের উদ্যোগে ৭৫ বছর বয়সি জাপানি বৃদ্ধের সৎকার করা হল কলকাতায়। চিতাভস্ম ভাসিয়ে দেওয়া হল কাশী মিত্র ঘাট থেকে গঙ্গায়। মেডিক্যাল সূত্রে খবর, একদিকে প্রশাসনিক অনুমতি জোগাড় করা। অন্যদিকে পারিবারিক যোগসূত্র জেনে কোনও সদস্যকে কলকাতায় আহ্বান করে সৎকার কার্য সম্পন্ন করা। অথবা দেহ জাপানে পাঠিয়ে সেখানেই পরিবারের হস্তক্ষেপে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে অন্তিম কাজ সমাধা করা। এই কাজ করতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে বিভিন্ন মহলে শয়ে শয়ে ফোন করতে হয়েছে মেডিক্যাল কলেজের কর্তাদের। কীভাবে বিদেশি নাগরিকের দেহ সৎকার হবে, মেডিক্যালেরই বা কী করণীয় তা জানার জন্য মোটা ফাইল বানাতে হয়েছে। গঠন করতে হয়েছে ছ’সদস্যের এক্সপার্ট কমিটি। বারবার ওই বৃদ্ধের বোনকে ফোন করা হয়েছে। জাপানি রোগী সংক্রান্ত ফাইল স্বাস্থ্যদপ্তর, নবান্ন ঘুরে দেশের বিদেশ মন্ত্রকের কাছে পর্যন্ত চলে গিয়েছে। কিন্তু সময়ে অনুমতি আসেনি। শেষ পর্যন্ত এদিন দুপুরে মৃত্যুর ১৬ দিন পর সৎকার প্রক্রিয়া শুরু হয়। মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ তথা সুপার ডাক্তার অঞ্জন অধিকারী বলেন, দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হল, আমরা জানতে পেরেছি ওই বৃদ্ধকে একটি ফাউন্ডেশন জাপান থেকে ভারতে নিয়ে আসে ভাষণ দেওয়ার জন্য। কিন্তু তিনি অসুস্থ হওয়ার পর সেই সংস্থার কোনও খোঁজ মেলেনি।