Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বোরখা পরে অনুপ্রবেশ মুর্শিদাবাদে, হাঙ্গামার ‘ফ্রন্টলাইনে’ ওপারের জেলভাঙা জঙ্গিরা!

বোরখা পরে অনুপ্রবেশ মুর্শিদাবাদে, হাঙ্গামার ‘ফ্রন্টলাইনে’ ওপারের জেলভাঙা জঙ্গিরা!
  • ১৭ এপ্রিল, ২০২৫ ১৪:০৪

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর ও কলকাতা: শেখ হাসিনা উৎখাত পর্বে বাংলাদেশের ঢাকা সহ বিভিন্ন প্রান্তের জেল ভেঙে পালানো কুখ্যাত জঙ্গিদের একটা বড় অংশ মুর্শিদাবাদের হাঙ্গামার নেপথ্যে ছিল বলে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। কমপক্ষে ২০ জঙ্গির ওই দল তিনটি ভাগে ভাগ হয়ে সামশেরগঞ্জ, সূতি ও ধুলিয়ানের হাঙ্গামার ‘নেতৃত্বে’ ছিল। কীভাবে তারা এপারে এল? স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে গোয়েন্দারা জেনেছেন, সূতি সীমান্ত দিয়ে এপারে এসেছে বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লা বাংলা টিমের (এবিটি) ওই ক্যাডাররা। বোরখা পরে সীমান্ত পার করানো হয় তাদের। এই দলে ‘রিপন’, ‘জুয়েল’, ‘এক্রামূল’, ‘মিজান’-এর মতো ওপারের কুখ্যাতরা ছিল বলে জানা যাচ্ছে। 

Advertisement

গোয়েন্দারা বলছেন, মহম্মদ ইউনুস ক্ষমতায় আসার পরেই ফের মৌলবাদী ও জঙ্গিদের ‘লীলাক্ষেত্র’ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ লাগোয়া রাজশাহী ও চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার নিয়ন্ত্রণ চলে গিয়েছে ওই জঙ্গিদের কাছে। অনেকটা মুম্বই হামলার ধাঁচে মুর্শিদাবাদের হাঙ্গামার ‘নিয়ন্ত্রক’রা সেখানে বসেই একের পর এক নির্দেশ দিয়েছে। হাঙ্গামার অনেক আগে থেকে ষড়যন্ত্রের যে ‘ব্লু-প্রিন্ট’ তৈরি করা হয়েছিল, তারই অঙ্গ হিসেবে গত জানুয়ারি মাসের চার তারিখ ধুলিয়ান শহরের সাত নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকটি এলাকা দাপিয়ে বেড়ায় মোটর সাইকেল আরোহী ‘বহিরাগতরা’। বাছাই করা কয়েকটি বাড়িতে তারা ইট-পাটকেলও ছোড়ে। বিষয়টি নিয়ে সেই সময় তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হলেও, তা ধামাচাপা পড়ে যায়। গোয়েন্দারা বলছেন, আসল উদ্দেশ্য ছিল রেকি করা। ওই পর্বে বহিরাগতরা এলাকার পথঘাট ও ‘টার্গেট’ চিনতে এসেছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন যুবকের ‘মগজ ধোলাই’ করে বহিরাগতদের টিমে যুক্ত করা হয়েছিল। 
যে এলাকায় গত জানুয়ারিতে বহিরাগতরা ‘দাপিয়ে’ বেড়িয়েছে, ঠিক সেই সাত নম্বর ওয়ার্ডের সিংহপাড়া, লালপুর ও গোরুর হাটপাড়ার মতো এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালানো হয়েছে। বড়সড় হাঙ্গামার পরিকল্পনা যে চলছে, তার আগাম আঁচও মিলেছিল মুর্শিদাবাদের ওই সমস্ত এলাকায়। নয়া ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদের নামে রঘুনাথগঞ্জ ও ধুলিয়ানের কয়েকটি জায়গায় সভা করে প্রয়োজনে ‘বাংলাদেশ লাইন’ প্রয়োগ করার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে কেন আগাম সতর্ক হওয়া গেল না, প্রশ্ন উঠছে তা নিয়েও। চলতি এপ্রিলে সেই ‘বাংলাদেশ লাইন’ প্রয়োগ করেই সামশেরগঞ্জ, সূতি ও ধুলিয়ানে ‘আগুন’ লাগানো হয়েছিল। 
গোয়েন্দারা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে যে হাঙ্গামাকারীরা এসেছিল, তাদের উপর নির্দেশ ছিল, রেল স্টেশন, বিডিও অফিস, থানা, বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের মতো সরকারি সম্পত্তি এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানেও আক্রমণ চালাতে হবে। আগুন ধরাতে হবে সরকারি সম্পত্তিতে। প্রয়োজনে খুন করতে হবে কর্তব্যরত পুলিসকে। গত সপ্তাহের হামলা পর্বে মুখ ঢাকা কয়েকজন সেই নির্দেশ অনুযায়ী এসডিপিও পদমর্যাদার একজন পুলিস আধিকারিককে গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন দিয়ে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার ছক কষেছিল। কোনওক্রমে প্রাণে বেঁচেছেন ওই পুলিস কর্তা। একই ছক বাছাই করা গৃহস্থ বাড়িতে আক্রমণের সময়ও প্রয়োগ করেছে দুষ্কৃতীরা। আগুন লাগিয়ে তাঁদের সন্তানদের জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি দিয়ে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে গিয়েছে ‘ভাড়াটে লুটেরা’রা। গোয়েন্দারা বলছেন, হাঙ্গামার সময় প্রতিটি পর্যায়ে এপার থেকে যেমন বিবরণ জানানো হয়েছে, ঠিক তেমনই ওপার থেকে নির্দেশও এসেছে। বারবার বাংলাদেশি মদতদাতারা জানাচ্ছিল, আরও বড়সড় হাঙ্গামা পাকাও! 

সম্পর্কিত সংবাদ